হুতিভীতিতে সৌদির আকাশ ফাঁকা

সংগৃহীত ছবি
ভূখণ্ডের বিস্তীর্ণ মরুভূমির মতোই ‘খাঁ খাঁ’ করছে সৌদি আরবের বিশাল আকাশপথও। উড়োজাহাজের চেনা ডানার বদলে সেখানে গর্জে উঠছে যুদ্ধের মেঘ। সেই আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে গেছে রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরের কার্যক্রম। ফ্লাইট বাতিলের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে জেদ্দার বিমানবন্দরও! একের পর এক হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি, রাজধানী— সবই তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু। দিনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যাও। আতঙ্কের মুখে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ঢাকা থেকেও রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সৌদির বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিলের হার গতকাল ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। সে তথ্যই দিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক উড়োজাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাভিয়েশন অ্যানালিটিকস ফার্ম সিরিয়াম। রয়টার্স।
চলমান এ অচলাবস্থায় গত রবিবার সৌদি আরব বা এর ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় সতর্কতা জারি করে মার্কিন বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ‘ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’। পরিষেবা স্থগিত করেছে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি বিমানসংস্থাও। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণ দেখিয়ে আগেই (শুক্রবার) সৌদির আকাশসীমাসংক্রান্ত সতর্কবার্তা আরও জোরদার করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত অ্যাভিয়েশন সংস্থা ইএএসএ। দেশটিতে ভ্রমণের বিষয়েও নাগরিকদের সতর্ক করেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। সবার আগে এ সতর্কতা দেয় সৌদির বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। দেখাদেখি কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানও। সর্বশেষ গতকাল সোমবার এ নিষেধাজ্ঞা দেয় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।
গত শনিবার থেকেই কার্যত ফাঁকা হতে শুরু করে সৌদির আকাশ। ওইদিনই রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা চালায় ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। হামলার পরপরই বিমানবন্দরটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেটি ছিল প্রথম দফার হামলা। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের প্রাণঘাতী ওই হামলায় বিমানবন্দরে দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত হন। ৩০৮ জন আহত। পরদিন রবিবার রাতে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুতিরা। সেদিনই বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর গতকাল পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে। তবে এখনো সেখানে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় ও বিলম্বের ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো বন্ধ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত নোটিস এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ সময় ১৮ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত।
এ-সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, ঢাকা থেকে রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী কমপক্ষে ৬১টি ফ্লাইট বাতিল এবং স্থগিত করা হয়েছে। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল বিকাল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়। এতে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৩৮১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের ঢাকা থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট। এ ছাড়া ইন্ডিগোর ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্ট এয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে।



