ইরানের নতুন অস্ত্র অবাক করবে বিশ্বকে!

আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি। ফাইল ছবি/ সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের জবাব দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলা—দুই ক্ষেত্রেই নতুন কৌশল নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি।
আজ সোমবার আল-আলম টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছেন। মোহেবি জানিয়েছেন, নতুন করে হামলা হলে যুদ্ধের ভৌগোলিক এলাকা এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম— দুটিই বদলে যাবে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা নতুন সক্ষমতার নতুন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে আসব। এতে বিশ্ব অবাক হবে।’
শুধু অস্ত্র নয়, হামলার লক্ষ্যও বদলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মোহেবি। তিনি বলেছেন, আগের হামলার লক্ষ্যগুলোই এবারও বেছে নেওয়া হবে এমন নয়। নতুন কিছু লক্ষ্য রয়েছে, যেগুলোয় এখনো হামলা চালানো হয়নি।
তবে কোন অস্ত্র, কোন এলাকা বা কোন লক্ষ্যকে বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। এর আগে ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেহরান সতর্ক করে বলেছে, ‘যেকোনো ভুলের ফল হবে যন্ত্রণাদায়ক হামলা।’
এদিকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরান চাইলে আবার আলোচনায় ফিরতে পারে। রবিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আল-মনিটর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন।
ওয়াল্টজ বলেছেন, ইরানের জন্য আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করে ইরান নতুন করে আলোচনা চেয়েছে—এমন প্রতিবেদনকে তিনি ‘কাল্পনিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
ওয়াল্টজ আরও বলেছেন, ১৯৭৯ সালের পর ইরানের সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং দেশটির অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ইরান শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে আলোচনায় ফিরবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল নিয়ে আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরান সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে। তারা হামলা বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংঘাত চলছে। তেহরানের দাবি, এতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। তারা বলেছে, পরিস্থিতি জটিল এবং অপ্রত্যাশিতভাবে সংঘাত আরও বাড়তে পারে। এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং অন্যদের ওই অঞ্চলে যাওয়া বা সেখান দিয়ে ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা




