গবেষণা
বার্ড ফ্লুতে মারা গেছে অস্ট্রেলিয়ার দুই দ্বীপের ৭৫ শতাংশ সীল শাবক

সংগৃহীত ছবি
অস্ট্রেলিয়ার অধীন অ্যান্টার্কটিক দ্বীপপুঞ্জে মারা যাচ্ছে হাজার হাজার সাউদার্ন এলিফ্যান্ট সীল শাবক। গত আগস্ট মাস থেকে দ্বীপের ৭৫ শতাংশ শাবক বার্ড ফ্লুতে মারা গেছে। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ। এটি ১০ লাখের বেশি সামুদ্রিক পাখি ও সীলের অবাসস্থল।
গত অক্টোবর ও জানুয়ারি মাসের তথ্য সংগ্রহ করে গবেষকরা অনুমান করেছেন, আগস্ট থেকে হার্ড দ্বীপের ১৭ হাজার সীল শাবকের একটি দল থেকে প্রায় ১৩ হাজার শাবক বার্ড ফ্লুর কারণে মারা গেছে। গবেষণায় ধারণার চেয়ে বেশি পেঙ্গুইনের মৃত্যুর তথ্যও পেয়েছেন তারা।
দ্বীপে বার্ড ফ্লুর এইচ৫এন১ ভ্যারিয়েন্ট পেয়েছেন গবেষকরা। সারা বিশ্বে বার্ড ফ্লুর এই ভ্যারিয়েন্ট পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ছড়ালেও অস্ট্রেলিয়ার এর সংক্রমণ ঘটেনি।
গবেষণা প্রবন্ধটি সম্প্রতি বায়ো-রেক্সাইভ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এটি দুর্গম দ্বীপগুলিতে ড্রোন সমীক্ষা এবং সশরীরে পরিদর্শনের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে এটি। বিজ্ঞানীরা ৯টি প্রজাতির নমুনা সংগ্রহ করেছেন যাদের মধ্যে ছয়টি প্রজাতির মধ্যেই বার্ড ফ্লুর এই স্ট্রেইনের উপস্থিতি পেয়েছেন তারা।
এর আগে গত বছরের শেষের দিকে দ্বীপগুলোয় বার্ড ফ্লুর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। সে সময় দ্বীপে হাজার হাজার সীল শাবকের মরদেহ দেখতে পেয়েছিলেন তারা।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হার্ড দ্বীপের ১৭ হাজার ৩৬৪টি সীল শাবকের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৫৯টি মারা গেছে। এই সংখ্যা পুরো দলটির ৭৫ শতাংশের বেশি। দ্বীপের একটি এলাকার ৯৭ শতাংশের বেশি সীল শাবক মারা গেছে। গবেষণাপত্রটি লেখার সময়ও মারা যাচ্ছিল সীল শাবক। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত হার আরও বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
অন্য জায়গায় পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, কয়েকশ পূর্ণবয়স্ক কিং পেঙ্গুইন মারা গেছে। এটি পেঙ্গুইনের মোট জনসংখ্যার তুলনায় কম হলেও স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি।
গবেষণাপত্রটির প্রধান লেখক বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ড. জুলি ম্যাকইনেস বলেছেন, হার্ড এবং ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপে এইচ৫ বার্ড ফ্লু শনাক্তের ঘটনা অস্ট্রেলিয়ার বহিঃঅঞ্চলে এ ভাইরাসের প্রথম উপস্থিতির প্রমাণ।
গবেষকরা ধারণা করছেন, ১ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ক্রোজে দ্বীপপুঞ্জ থেকে পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে এই দ্বীপগুলোয় ছড়িয়েছে বার্ড ফ্লু।
সূত্র: বিবিসি।




