ইতালিতে নেওয়া হবে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ বিদেশি কর্মী

সংগৃহীত ছবি
ইতালিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ২০২৭ সালের কর্মসূচি ডিক্রেতো ফ্লুসিতে মোট ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০টি প্রবেশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি, পর্যটন, বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ও অমৌসুমি চাকরি এবং পারিবারিক সহায়তা খাতে নেওয়া হবে এসব কর্মী। ২০২৭ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চার ধাপে আবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১২ জানুয়ারি কৃষি খাতের মৌসুমি কর্মী, ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যটন খাতের মৌসুমি কর্মী, ১৬ ফেব্রুয়ারি অমৌসুমি চাকরি এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি পারিবারিক সহায়তা খাতের কর্মীদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার দিন নির্ধারিত রয়েছে।
তবে আবেদন জমা দেওয়ার দিনের আগেই প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করতে হবে। ইতালির সরকারি ওয়েবসাইটে নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে। তাই আগ্রহী কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কোন খাতে কতজন কর্মী নেওয়া হবে?
২০২৭ সালের মোট কোটার মধ্যে ৭৬ হাজার ২০০টি অমৌসুমি চাকরির জন্য। কৃষি ও পর্যটন খাতে মৌসুমি কর্মী নেওয়ার জন্য রয়েছে ৮৯ হাজার কোটা। এ ছাড়া স্বনিয়োজিত কাজের জন্য রাখা হয়েছে ৬৫০টি কোটা। অমৌসুমি চাকরির কোটার মধ্যে ১৪ হাজারটি পারিবারিক সহায়তা খাতের জন্য নির্ধারিত। ফলে বিভিন্ন পেশার পাশাপাশি পরিবার ও গৃহস্থালিসংক্রান্ত কাজেও বিদেশি কর্মীদের সুযোগ থাকছে।
বাংলাদেশিদের জন্যও থাকছে সুযোগ
২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের ডিক্রেতো ফ্লুসির দেশভিত্তিক তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে। ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাংলাদেশি নাগরিকদেরও ইতালিতে কাজের জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
তবে কোটা থাকলেই যে কেউ সরাসরি ভিসার আবেদন করতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয়। এ ক্ষেত্রে ইতালিতে একজন বৈধ নিয়োগকর্তা থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট চাকরির নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। বিদেশি কর্মীর জন্য কাজের অনুমতির আবেদন করতে হবে নিয়োগকর্তাকেই।
কীভাবে আবেদন করতে হবে?
ডিক্রেতো ফ্লুসির আওতায় আবেদন প্রক্রিয়ায় নিয়োগকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইতালির নিয়োগকর্তাকে নির্ধারিত সরকারি অনলাইন পোর্টালে বিদেশি কর্মীর জন্য আবেদন করতে হয়। নির্ধারিত দিনে আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট খাতের কোটা ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী আবেদনগুলো বিবেচনা করা হয়।
কাজের অনুমতি বা নুল্লা ওস্তা অনুমোদিত হলে কর্মী নিজ দেশে ইতালির দূতাবাস বা কনস্যুলেটে ভিসার আবেদন করতে পারবেন। ভিসা পাওয়ার পর ইতালিতে প্রবেশ করে চাকরি ও বসবাসের অনুমতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
এ কারণে বাংলাদেশ থেকে যারা ইতালিতে যেতে চান, তাদের আগে প্রকৃত চাকরির প্রস্তাব ও বৈধ নিয়োগকর্তা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো মধ্যস্থতাকারী ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেই তাকে বিশ্বাস না করে সরকারি নির্দেশনা, নিয়োগকর্তার তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত।
আগেভাগে প্রস্তুতির পরামর্শ
২০২৭ সালের ডিক্রেতো ফ্লুসির নির্ধারিত কোটা ও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির আবেদন জমা দেওয়ার দিনগুলো বিদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশিদের জন্যও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। তবে সঠিক সময়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রস্তুত রাখা এবং ইতালির সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।




