বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানে
- নাগরিকদের জন্য খুলেছে সামরিক কেন্দ্র, প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ১ হাজার ব্যাটালিয়ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ঘিরে বেড়ে চলেছে উৎকণ্ঠা। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কঠোর জবাব ও নাগরিক প্রশিক্ষণের দৃশ্য এরই মধ্যে চোখে পড়ছে ইরানে। গতকাল রবিবার তেহরানে আরও একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেছে দেশটির আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ। প্রায় এক হাজার ব্যাটালিয়নের প্রশিক্ষণ দেবে সেখানে। মিডল ইস্ট আইয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থল আক্রমণের মুখে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মোকাবিলা করার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করাই এ কেন্দ্রের লক্ষ্য।
সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি খোলা হয়েছে ‘হাফত-এ-তির স্কয়ার’-এ। আগামী সপ্তাহগুলোয় বেসামরিক নাগরিকদের এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্রটির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ছদ্মবেশে আবৃত (ক্যামোফ্লাজ করা) বিমান বিধ্বংসী সরঞ্জাম নিয়ে মহড়া দিচ্ছেন, বাধা অতিক্রমের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি হেডসেট ব্যবহার করে অস্ত্র চালনার অনুশীলন করছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বাসিজ’ সংগঠনের প্রশিক্ষণবিষয়ক উপপ্রধান আলি কাওসারি জানিয়েছেন, প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এক হাজার ব্যাটালিয়ন। সমাজের সর্বস্তরে বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।
কাওসারি বলেছেন, শত্রুপক্ষ যদি ‘আরও একবার ভুল হিসাব-নিকাশ’ করে, তবে যেকোনো নতুন হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে ইরানিরা। ইরানের উপকূল থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূর পর্যন্ত অবস্থান করছে মার্কিন সেনা। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। গতকাল ফার্স বার্তা সংস্থাকে এ কথা জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া। তিনি বলেছেন, ‘এ পরিস্থিতির মধ্যে আমরা উপলব্ধি করেছি যে, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানো একান্ত প্রয়োজন এবং আমরা এখন সেই লক্ষ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছি।’
বন্ধ থাকবে হরমুজ: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সাত শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ প্রণালি। আলোচনায় তেহরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী গালিবাফ জানিয়েছেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সাতটি শর্ত ওয়াশিংটন পূরণ না করা পর্যন্ত এই বিতর্কিত জলপথটি বন্ধ রাখা হবে। তিনি স্বীকার করেন, প্রণালিটি আবার খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে তেহরান সাত দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ‘একজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কিছু প্রস্তাব’ দিয়েছিল। তবে তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘সময়ক্ষেপণ এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে’ এবং এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান ‘সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট’।
ইরান বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন: ইরান বিষয়ে অতি জলদি একটি সিদ্ধান্ত নেবে ওয়াশিংটন, বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাদের সিদ্ধান্তের ফল নির্ধারিত হতে পারে ‘সহজ পথে’ অথবা ‘কঠিন পথে’। গতকাল হোয়াইট হাউজের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে ‘বিধ্বস্ত’ করা হয়েছে, তবে তিনি তার প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তার ভাষ্য, ‘ইরান বিষয়ে আমাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানকে বিধ্বস্ত করা হয়েছে। তাই এখন একমাত্র প্রশ্ন হলো, বিষয়টির সমাধান কি সহজ পথে হবে, নাকি কঠিন পথে।’
ইরানবিষয়ক পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা থেকে ট্রাম্প বিরত রয়েছেন। তিনি বারবার বলছেন, পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে যাচ্ছে। গত শুক্রবার তার কৌশল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, পরিকল্পনা প্রকাশ করলে তা বড় ধরনের সংবাদ শিরোনাম হবে। তিনি বলেছেন, ‘আমি যদি আপনাদের বলি, তবে আপনারা বড় একটি খবর পেয়ে যাবেন, তাই না? তবে আপনারা দেখতেই পাবেন। সবকিছু খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। ইরানের অবস্থা ভালো নয়।’
এর আগে গত শুক্রবার টেক্সাসে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে ‘খুব দ্রুত’। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, সংঘাতের অবসান ঘটলে তেলের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জের এখনো
চলছে। গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতিতে ৪০ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটলেও অব্যাহত ছিল বিক্ষিপ্ত সংঘাত।



