নতুন শান্তি প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ ও সেনা প্রত্যাহারের শর্ত ইরানের

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানে ফের ওয়াশিংটনকে ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ, ইরানের কাছাকাছি এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে হওয়া ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। আজ মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে এমন খবর।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির বরাতে আইআরএনএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত অর্থছাড় এবং দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামুদ্রিক অবরোধের অবসানও চেয়েছে।
ইরানি প্রস্তাবে বর্ণিত শর্তগুলো দেশটির আগের প্রস্তাবের তুলনায় খুব বেশি পরিবর্তিত বলে মনে হয়নি। যেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ‘আবর্জনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর পর তিনি ইরানের বিরুদ্ধে হামলা আবার শুরুর পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘খুব ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ফের চালু করার মতো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ট্রাম্প এর আগেও সংঘাত শেষ করার জন্য একটি চুক্তির কাছাকাছি বলে আশা প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে তেহরান চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলার হুমকিও দিয়েছিলেন। হরমুজ তেল ও অন্যান্য পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প এদিনে লেখেন, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছেন। কারণ, ‘একটি চুক্তি হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরের সব দেশের জন্য খুবই গ্রহণযোগ্য।’
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বললেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, যা তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে, তাহলে সেটাই হবে যথেষ্ট।’
ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বললেন, ‘মনে হচ্ছে তারা (ইরান) কোনো সমাধানে পৌঁছানোর খুব ভালো সুযোগ পেয়েছে। যদি আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ বোমাবর্ষণ না করেই এটা করতে পারি, তাহলে খুবই খুশি হব আমি।’
এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনের কাছে ইরানের প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে। দেশটি গত মাসে একমাত্র শান্তি আলোচনা আয়োজনের পর থেকে দুপক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে। ওই কর্মকর্তার মতে, উভয় পক্ষই তাদের লক্ষ্য বারবার বদলাচ্ছে।
যদিও এক মাস ধরে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনায় কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে কোনো ছাড়ের কথা জানায়নি। সোমবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দেন, ওয়াশিংটন হয়তো তাদের কিছু দাবিতে নমনীয় হচ্ছে।
তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থের এক-চতুর্থাংশ ছাড়ে সম্মত হয়েছে। ইরান সব সম্পদই মুক্ত করতে চায়। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানকে কিছু শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়ার বিষয়ে আরও নমনীয়তা দেখিয়েছে ওয়াশিংটন।
তবে আলোচনায় কোনো বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিশ্চিত করেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন। যেখানে বলা হয়েছিল, আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর তেলের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে সম্মত হয়েছে।






