ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: প্রাণহানি ছাড়াবে ১০ হাজার

ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর বৃহস্পতিবার হাজারো মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বহু মানুষ ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। এরই মধ্যে একের পর এক আফটারশক পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার বিকালে কারাকাস থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।
রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে কারাকাসে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে উৎকণ্ঠিত পরিবারগুলো বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়ায়। আহতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পাশের একটি ভবনের বাসিন্দা মারিয়া আলেহান্দ্রা বললেন, ‘নিচে নেমে মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভৌতিক সিনেমার দৃশ্য দেখছি। ধ্বংসস্তূপ টপকে বের হতে হয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক একটি শিশুকে নিয়ে বের হতে পেরেছিলেন। কিন্তু ওই ভবন থেকে আমি শুধু একটি পরিবারকেই বের হতে দেখেছি।’
অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে এই সংখ্যা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়ারা অঙ্গরাজ্যের হতাহতের হিসাব অন্তর্ভুক্ত নয়। কারাকাসের বিমানবন্দর অবস্থিত এই এলাকায় ভবনের ছাদ ধসে পড়া এবং মানুষের আতঙ্কে ছোটাছুটির দৃশ্য সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে রদ্রিগেজ বললেন, ‘অনেক ভবন ধসে পড়েছে। যত বেশি সম্ভব প্রাণ বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘লা গুয়ারা এখন এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির নাম। পুরো অঞ্চলটি দুর্যোগকবলিত এলাকায় পরিণত হয়েছে।’
ইউএসজিএসের পূর্বাভাসভিত্তিক মডেল বলছে, মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছাতে পারে। এমনকি ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ারও উল্লেখযোগ্য আশঙ্কা রয়েছে।
বিরোধী নেতাদের উদ্যোগে তৈরি নিখোঁজ ব্যক্তিদের একটি অনলাইন তালিকায় বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ভূমিকম্পের সময় অধিকাংশ মানুষ ছিলেন নিজ নিজ বাসায়।
পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী কোরো মার্তিনেজ বলছিলেন, ‘প্রচণ্ড শব্দ হয়েছিল। ঘরের জিনিসপত্র, এমনকি ফ্রিজের ভেতরের বোতলও পড়ে যায়। জীবনে এমন অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি।’




