বাংলাদেশিরা সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়, দাবি শুভেন্দুর

হিঙ্গলগঞ্জ থানায় কালীপূজার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এড়িয়ে ভারতে ঢোকার অপেক্ষায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। একজন অনুপ্রবেশকারীও পশ্চিমবঙ্গে থাকতে পারবেন না। তাদের খুঁজে বের করে বিতাড়িত করা হবে।
রবিবার ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী হিঙ্গলগঞ্জে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৭৪তম ব্যাটালিয়নের শিবির পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। দিনটির বেশির ভাগ সময় তিনি ওই শিবিরে কাটান। পরে হিঙ্গলগঞ্জ থানায় কালীপূজার উদ্বোধন করেন এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশকারীদের কোনো জায়গা নেই। সীমান্তের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করা হবে। তিনি নিজে সীমান্তের শেষ ভাসমান চৌকি পরিদর্শন করেছেন এবং দূরবীন দিয়ে বাংলাদেশের দিকের পরিস্থিতি দেখেছেন। তার দাবি, সীমান্তের ওপারে অনুপ্রবেশকারীরা অপেক্ষা করছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সাময়িক অনুপস্থিতির সুযোগে তারা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ইতিমধ্যে কয়েক লাখ অনুপ্রবেশকারীকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সীমান্তের ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চলছে। অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে। এ বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর এসব বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী কেন্দ্রীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। নীতিগত বিষয়ে সমালোচনা বা প্রশ্ন তোলা এক বিষয়, কিন্তু সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারকেই নিতে হবে।
কুণাল ঘোষ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। তাহলে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার থাকার পরও কীভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রোহিঙ্গাদের প্রবেশ ঘটছে? এর দায় কার? শুধু পশ্চিমবঙ্গকে দায়ী করা কি ন্যায্য? ত্রিপুরাতেও অনুপ্রবেশকারীদের আটক করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব সময় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের সম্মান করেছেন। কারণ, তারাও আমাদেরই মানুষ।’
সূত্র: এনডিটিভি




