Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
হোটেলশ্রমিক সোহেলের মজুরিতে রাস্তা সংস্কার
রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় ভারত

মিজোরামে অনিশ্চয়তার জীবন মিয়ানমারের শরণার্থীদের

  • বোমার আঘাতে হারিয়েছেন পা, স্থলমাইনে পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। প্রাণ বাঁচিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় মিলেছে মিজোরামে, কিন্তু চিকিৎসা, জীবিকা ও আইনি স্বীকৃতির অভাবে প্রতিদিনই নতুন করে লড়াই করতে হচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষদের
শিভাশীষ ভট্টাচার্য
agamir somoy
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২১:০৫
শেয়ার করুন:
মিজোরামে অনিশ্চয়তার জীবন মিয়ানমারের শরণার্থীদের

একসময় যে হাত সংসারের জন্য রান্না করত, সেই হাতেই এখন ক্ষতচিহ্নের স্মৃতি। যে পায়ে ভর দিয়ে মাঠে কাজ করতেন, সেই পা আর নেই। এক মুহূর্তের বিস্ফোরণ বদলে দিয়েছে গোটা জীবন।

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে মিজোরামে আশ্রয় মিলেছে ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধের ক্ষত এখনও তাঁদের শরীর ও মনে গভীরভাবে রয়ে গিয়েছে। ঘর নেই, জমি নেই, নিশ্চিত জীবিকা নেই। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটছে অসংখ্য শরণার্থীর।

মিজোরামের সিহমুই শরণার্থী শিবির কিংবা আইজলের বিভিন্ন প্রান্তে আশ্রয় নেওয়া এই মানুষগুলির কাছে যুদ্ধ এখন আর শুধু গোলাগুলি, বিমান হামলা কিংবা বিস্ফোরণের স্মৃতি নয়। যুদ্ধ তাদের প্রতিদিনের জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে। শরীরের অঙ্গ হারানোর যন্ত্রণা, পরিবারের দায়িত্ব, চিকিৎসার খরচ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে তাদের জীবন যেন এক দীর্ঘ অপেক্ষা।

একসময় মিয়ানমারের চিন রাজ্যের মাতুপি এলাকায় কৃষিকাজ করে সংসার চালাতেন এক নারী। স্বামীর সঙ্গে জমিতে কাজ করতেন। বাড়িতে রান্না করতেন, সন্তানদের দেখাশোনা করতেন। কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থানের পর ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষ তার সেই স্বাভাবিক জীবনকে তছনছ করে দেয়।

বাড়িতে রান্না করার সময় আচমকা আকাশ থেকে নেমে আসে বোমা। বিস্ফোরণের অভিঘাতে তার ডান পা উরুর নিচ থেকে বাদ দিতে হয়। অন্য পায়েও আটকে রয়েছে বোমার স্প্লিন্টার। প্রাণে বেঁচে গেলেও সেই মুহূর্তে হারিয়ে যায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সমস্ত নিশ্চয়তা।

গত ২৮ অক্টোবর দুই ছেলের সাহায্যে আইজলের একটি হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন তিনি। বাম পায়ে আটকে থাকা বোমার টুকরো বের করতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর কী হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই। কারণ, হাসপাতালের শয্যা থেকে উঠে দাঁড়ালেও তার সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন বাস্তবতা—কীভাবে চলবে সংসার, কীভাবে হবে নিয়মিত চিকিৎসা, কীভাবেই বা ফিরবেন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে?

শুধু বিমান হামলায় আহত হওয়া মানুষ নন, মায়ানমারের সামরিক সংঘর্ষে স্থলমাইনে পা হারিয়েছেন বহু মানুষ। তাঁদেরই একজন একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর গণতন্ত্রের দাবিতে সশস্ত্র প্রতিরোধে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২২ সালের মার্চে মাতুপি এলাকায় এক অভিযানের সময় স্থলমাইনে পা পড়ে তাঁর।

গুরুতর আঘাতে একটি পা বাদ দিতে হয়। চিকিৎসার জন্য পরে তাকে আইজলে নিয়ে আসা হয়। অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাতে পরিবারের সাহায্য নিতে হয়েছিল। প্রতিরোধ বাহিনীর কাছে সাধারণ মানুষের অনুদান থাকলেও আহত সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই।

এখন স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে সিহমুই শরণার্থী শিবিরে একটি ছোট ঘরে থাকেন তিনি। ভারী কাজ করার ক্ষমতা নেই। দেশে ফিরে পড়াশোনা শেষ করা কিংবা চাকরি খোঁজার সুযোগও অনিশ্চিত।

প্রতিদিনের খাবার, ঘরভাড়া, সন্তানের প্রয়োজন এবং চিকিৎসার খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে কম্পিউটার কেনা কিংবা নতুন করে জীবিকা শুরু করা এখনও অধরা।

মিজোরামের আইজলের কাছে সিহমুই এলাকায় মাসে তিন হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ঘরে থাকেন বোমার আঘাতে পা হারানো ওই নারী। চার সন্তানের মধ্যে তিনজন তার সঙ্গে রয়েছেন। একজন এখনও মায়ানমারে।
সন্তানদের কেউ বাগানের আগাছা পরিষ্কার করেন, কেউ সুযোগ পেলে নির্মাণকাজে দিনমজুরি করেন। সেই সামান্য আয়েই চলে সংসার। কখনও কখনও একবেলার খাবার বলতে শুধু ভাত আর জল।নিজে কাজ করতে পারেন না ওই নারী। নিয়মিত পরিচর্যারও প্রয়োজন। ফলে সন্তানদের পালা করে মায়ের পাশে থাকতে হয়। যে বয়সে তাঁদের নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই সংসারের খরচ এবং মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে।অন্যদিকে, স্থলমাইনে পা হারানো ওই প্রাক্তন ছাত্রের পরিবারেও উপার্জনের পথ ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। তার স্ত্রী আগে বাড়িতে সেলাইয়ের কাজ করতেন। কিন্তু বিদ্যুতের খরচ এবং স্থানীয়ভাবে কাজের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়।মিজোরামের সঙ্গে মায়ানমারের প্রায় ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত। দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত সম্পর্ক বহু পুরনো। সেই সম্পর্কের টানেই ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মায়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর চিন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ মিজোরামের বিভিন্ন গ্রাম, গির্জা ও আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছেন।স্থানীয় মানুষের সহানুভূতি, গির্জার উদ্যোগ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির সহায়তায় বহু শরণার্থী প্রাথমিকভাবে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষের কারণে এই আশ্রয়ই এখন অনেকের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠেছে।ইনস্টিটিউট অব চিন অ্যাফেয়ার্সের হিসাব অনুযায়ী, চিন রাজ্যের প্রায় অর্ধেক মানুষ ঘরছাড়া। প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। আরও প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার মানুষ মায়ানমারের ভিতরেই অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।মিজোরামের সরকারি হিসাবে, মিয়ানমার-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৩৮,২১৩ জন শরণার্থী নথিভুক্ত হয়েছেন। স্থানীয় সংগঠনগুলির ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা এখনও সীমিত। ফলে আশ্রয় পেলেও তাঁদের জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা কাটছে না।মিয়ানমারের চিন রাজ্যে সংঘর্ষের ভয়াবহতা বোঝা যায় বিমান হামলার পরিসংখ্যানে।ইনস্টিটিউট অব চিন অ্যাফেয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিন রাজ্যে ২৪১টি বিমান হামলা চালিয়েছে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী। ফেলা হয়েছে এক হাজার ৬১টিরও বেশি বোমা। এতে অন্তত ২৪৯ জনের মৃত্যু, ৪২৪ জনের বেশি আহত এবং ১,২৮০টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে সংস্থাটির দাবি।চিন হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনের অভিযোগ, বিমান হামলায় শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, গির্জা, ধর্মীয় স্থাপনা ও জনবসতিও আক্রান্ত হয়েছে।২০২৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মাতুপি টাউনশিপের চিনপিয়াং গ্রামের একটি ব্যাপটিস্ট গির্জায় প্রার্থনা চলাকালীন হামলায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। আহত হন আরও কয়েকজন।গত ১ সেপ্টেম্বর মিনদাত টাউনশিপের ভুমখুম গ্রামে আর এক বিমান হামলায় আটজনের মৃত্যু এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে বার্মা নিউজ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।এই পরিসংখ্যানের প্রতিটি সংখ্যার পিছনে রয়েছে এক একটি পরিবার, একটি ভেঙে যাওয়া সংসার, এক একটি অসমাপ্ত জীবন। কারও সন্তান হারিয়েছে মা-বাবাকে, কেউ হারিয়েছেন নিজের সন্তানকে। আবার কেউ প্রাণে বেঁচে গেলেও চিরতরে হারিয়েছেন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার ক্ষমতা।শরণার্থীদের সংকট আরও গভীর হয়েছে আইনি স্বীকৃতির অভাবে।ভারতে মিয়ানমারের নাগরিকদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনও স্বতন্ত্র আইনি কাঠামো নেই। ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশনেরও স্বাক্ষরকারী নয়। ফলে শরণার্থীদের জীবন অনেকটাই নির্ভর করছে স্থানীয় মানুষের সহানুভূতি, গির্জা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং আত্মীয়দের সাহায্যের উপর।প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র না থাকায় তাদের পক্ষে ভারতের অন্যত্র যাতায়াতও কঠিন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের পরিচয়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে।বৈধ নথির অভাবে নিয়মিত কাজের সুযোগ সীমিত। সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়াও কঠিন। ফলে অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা কিংবা পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু—যে কোনও পরিস্থিতিতেই তাদের সামনে আর্থিক সংকট আরও গভীর হয়ে ওঠে।যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থীদের মধ্যে যারা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন, তাঁদের সমস্যা আরও জটিল।একদিকে কাজ করতে না পারার কারণে আয় বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে প্রয়োজন হয় নিয়মিত চিকিৎসা, পরিচর্যা, কৃত্রিম অঙ্গ এবং পুনর্বাসনের। পরিবারের একজন সদস্যকে সারাক্ষণ আহত ব্যক্তির পাশে থাকতে হওয়ায় তাঁরও কাজের সুযোগ কমে যায়।আইজলের এক চিকিৎসকের মতে, আগে একটি ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা পরিষেবার মাধ্যমে মিয়ানমারের সংঘর্ষে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু গত বছর ইউএসএআইডি-র অর্থসাহায্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সেই পরিষেবা আর চালানো সম্ভব হয়নি।তার মতে, বিদেশে থাকা আত্মীয় কিংবা অন্য কোনও আর্থিক সহায়তার উৎস না থাকলে গুরুতর আহত শরণার্থীদের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব।সিহমুই শরণার্থী শিবিরের বাইরেও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বহু আহত মানুষ। তাদের মধ্যে কেউ কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত। কেউ একাধিকবার গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে রয়েছেন। আবার কারও একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।এক তরুণ আহত শরণার্থীকে কাঁধে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনটি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। প্রথম দু’টির খরচ প্রতিরোধ বাহিনী বহন করলেও তৃতীয় অস্ত্রোপচারের জন্য পরিবারকে আট লক্ষ টাকা জোগাড় করতে হয়েছিল।এখন অন্য আহতদের পরিচর্যা ও অনুবাদের কাজ করে নিজের খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন তিনি।যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলির কাছে চিকিৎসা তাই শুধু হাসপাতালের শয্যা কিংবা অস্ত্রোপচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসার পরেও প্রয়োজন হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, মানসিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং জীবিকার সুযোগ।২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সাইরাং-বৈরাবি রেলপথ চালু হওয়ার পর মিজোরামের যোগাযোগ ও পর্যটন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। রাজ্যের উন্নয়নের নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে এই রেলপথ।কিন্তু সেই উন্নয়নের আলো থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে সিহমুই শরণার্থী শিবিরে বসে বহু মানুষের দিন কাটে অনিশ্চয়তায়।কেউ হারিয়েছেন পা, কেউ হারিয়েছেন ঘর। কারও পড়াশোনা থেমে গিয়েছে, কারও জীবিকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে নতুন করে বাঁচার চেষ্টা করছেন।মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ পঞ্চম বছরে পড়েছে। সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি-র হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এক লক্ষ পর্যন্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৩৫ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সামরিক বাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে বিমান হামলা বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি।এর পরিণতি সবচেয়ে বেশি ভোগ করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের অনেকেই আর কোনও দিন আগের জীবনে ফিরতে পারবেন না।যুদ্ধ তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। কিন্তু সীমান্ত পেরিয়ে এলেই যে যুদ্ধের সব ক্ষত মুছে যায় না, মিজোরামের শরণার্থী শিবিরগুলি তারই প্রমাণ।তাদের প্রয়োজন শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়। প্রয়োজন চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কৃত্রিম অঙ্গ, জীবিকার সুযোগ এবং আইনি স্বীকৃতি। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যা তাঁদের অসহায় মানুষ হিসেবে নয়, অধিকারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বাঁচার পথ দেখাবে।কারণ, যুদ্ধের ময়দান থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরে আসাটাই জীবনের শেষ লড়াই নয়। অনেকের কাছে প্রকৃত লড়াই শুরু হয় সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পর—যখন প্রতিদিনের খাবার, চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মিয়ানমারশরণার্থীমিজোরাম
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    আসাদ নূরকে বিয়ে করেছেন সংগীতশিল্পী পারশা!

    আসাদ নূরকে বিয়ে করেছেন সংগীতশিল্পী পারশা!

    বক্তব্যে শহীদ জিয়ার নাম নিলেন না শিক্ষা কর্মকর্তা, পরে দুঃখ প্রকাশ

    বক্তব্যে শহীদ জিয়ার নাম নিলেন না শিক্ষা কর্মকর্তা, পরে দুঃখ প্রকাশ

    ব্যানারে শহীদ জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় হট্টগোল

    ব্যানারে শহীদ জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় হট্টগোল

    সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

    সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নিহত

    জীবনে ঠিকানাহীন, সাহিত্যে চিরস্থায়ী

    জীবনে ঠিকানাহীন, সাহিত্যে চিরস্থায়ী

    নোয়াখালী রুটে চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’

    নোয়াখালী রুটে চালু হচ্ছে নতুন ট্রেন ‘সুবর্ণচর এক্সপ্রেস’

    রাষ্ট্র সংস্কারে জিয়ার ভূমিকা ও আজকের বাংলাদেশ

    রাষ্ট্র সংস্কারে জিয়ার ভূমিকা ও আজকের বাংলাদেশ

    আদর্শ থেকে ‘সরে যাওয়ায়’ এনসিপি ছাড়লেন শিশির

    আদর্শ থেকে ‘সরে যাওয়ায়’ এনসিপি ছাড়লেন শিশির

    ৩ প্রেক্ষিত ৩ পক্ষ

    ৩ প্রেক্ষিত ৩ পক্ষ

    এমপিহীন সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা ঢিলা

    এমপিহীন সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা ঢিলা

    মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

    মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন

    শুল্ক বাড়িয়ে উল্টো রাজস্ব হারাল এনবিআর

    শুল্ক বাড়িয়ে উল্টো রাজস্ব হারাল এনবিআর

    ঝুঁকির ভয়ে গল্প বলা বন্ধ করে দিলে এগোব কীভাবে: আদনান আল রাজীব

    ঝুঁকির ভয়ে গল্প বলা বন্ধ করে দিলে এগোব কীভাবে: আদনান আল রাজীব

    লাইপজিগের প্রদর্শনীতে উঠে আসছে উপকূল, রাজনীতি ও মানুষের অস্তিত্বের গল্প

    লাইপজিগের প্রদর্শনীতে উঠে আসছে উপকূল, রাজনীতি ও মানুষের অস্তিত্বের গল্প

    সেনাপ্রধান আইজেনকট এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে কী অবস্থান

    সেনাপ্রধান আইজেনকট এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে, ফিলিস্তিন প্রশ্নে কী অবস্থান