বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়ে মুখ খুললেন সায়নী

সায়নী ঘোষ
তৃণমূলের অন্দরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানোর পর প্রথমবার মুখ খুললেন যাদবপুরের সংসদ সদস্য সায়নী ঘোষ। দিল্লিতে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়লেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা সংবাদমাধ্যমকে নয়, তিনি দেবেন তার সংসদীয় এলাকার মানুষকে।
সম্প্রতি তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষে স্পিকারের কাছে জমা পড়া চিঠিতে সায়নীর স্বাক্ষর সামনে আসার পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। কারণ দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা ছিল, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠদের অন্যতম এবং দলের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গেই থাকবেন। সেই কারণেই সম্প্রতি সাংগঠনিক রদবদলের সময়ও তাকে যুব সভাপতির পদে বহাল রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিদ্রোহী শিবিরে যোগদানের খবর সামনে আসতেই দ্রুত সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাকে।
দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সায়নী বললেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমকে কোনো জবাব দেব না। জবাব দেব আমার সংসদীয় এলাকার মানুষকে। তাদের কাছেই আমার বক্তব্য পৌঁছবে।’
দলীয় সূত্রে খবর, সায়নীকে বিদ্রোহী শিবিরে নেওয়া নিয়ে প্রথমে আপত্তি ছিল কয়েকজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের। তাদের মধ্যে শতাব্দী রায় ও জুন মালিয়ার নামও উঠে এসেছে। সায়নীর রাজনৈতিক আচরণ ও অতিসক্রিয়তা নিয়ে একাংশের আপত্তি ছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে পরে দিল্লিতে এক বৈঠকে সেই মতভেদ অনেকটাই মিটে যায় এবং তার যোগদানের পথ প্রশস্ত হয়।
উল্লেখ্য, ২ জুনের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে প্রায় সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন সায়নী। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই নীরবতাই ছিল বড় কোনো সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত।
এদিকে তৃণমূল সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া সংসদ সদস্যদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, জনগণ যে প্রতীকে তাদের নির্বাচিত করেছে, সেই দল ছেড়ে অন্য শিবিরে যেতে চাইলে আগে সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে জনসমর্থন যাচাই করা উচিত। বিদ্রোহীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।


