চোখের চিকিৎসায় বিদেশ যেতে চান তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি আদালত। বিচারপতি জানিয়েছেন, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ীই শুনানি হবে মামলার
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফরের উপর কিছু শর্ত কার্যকর রয়েছে আগে থেকেই। একটি মামলায় তাকে দেওয়া আইনি সুরক্ষার অংশ হিসেবে আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না বলে নির্দেশ রয়েছে। সেই কারণেই চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে যাওয়ার আগে আদালতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য যে, কয়েক বছর আগে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনায় চোখের নীচের অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে। এরপর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে চোখ-সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি অতীতেও বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন এই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা।
এই পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে অভিষেকের আইনজীবী জানান, চিকিৎসার জন্য প্রায় এক সপ্তাহের বিদেশ সফরের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানানো হয়। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করেননি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
আদালতের মতে, মামলাটি যে ক্রমে তালিকাভুক্ত হয়েছে, শুনানি হবে সেই ক্রম মেনেই। অন্য মামলার আগে এটিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখেনি আদালত। ফলে আপাতত দ্রুত শুনানির সুযোগ মিলছে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আইনজীবীদের অনেকেরই মতে, বিদেশে চিকিৎসা সংক্রান্ত অনুমতির আবেদন আদালতে নতুন নয়। তবে কোনও মামলায় আগে থেকে শর্ত বা বিধিনিষেধ থাকলে আদালত সাধারণত প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করে। সেই কারণেই অভিষেকের ক্ষেত্রেও নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবী আগামীর সময়কে জানান, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চললে বা আদালতের শর্ত বহাল থাকলে বিদেশ সফরের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে চিকিৎসার মতো মানবিক কারণে অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে বিদেশযাত্রার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
তিনি আরও জানান, এখন আদালত কবে মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করে এবং বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হবে কি না দেখার বিষয় সেটাই।





