থাকবে না সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউর নাম: শুভেন্দু

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
অনুপ্রবেশ রোধকে সামনে রেখে আরও কড়া অবস্থানের বার্তা দিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই। আগামী দিনে আরও জোরদার হবে তা।
সরকারের বক্তব্য, সরকারি সুযোগ-সুবিধা শুধুমাত্র বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের জন্যই নিশ্চিত করা হবে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, কয়েক হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ইতোমধ্যেই সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে। আরও বহু মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সীমান্ত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আগের সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন।
তার বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন,যারা পালাতে চান, পালিয়ে যান। আমার কথা শোনার পর হাকিমপুর দিয়ে পালিয়েছে অনেকেই। সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়ে কোনো আপস করবেন না বলেও জানান। বিরোধী দল বা কেউ যদি এই নীতি নিয়ে আঙুল তোলে, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পরোক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এই বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। বিরোধীদের প্রশ্ন, অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হলেও সেই দাবির পরিসংখ্যান ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য জনসমক্ষে আনা প্রয়োজন।
তাদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোনও পদক্ষেপ যাতে প্রকৃত নাগরিকদের উদ্বেগের কারণ না হয়ে ওঠে, প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা দরকার সে বিষয়েও।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গের পাশাপাশি এদিন বিধানসভায় উঠে আসে রাজ্যের বিভিন্ন রাস্তা ও এলাকার নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও।
এদিন বিধানসভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুললে তার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, থাকবে না সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউর নাম। কোনও মুঘল-পাঠানের নাম থাকবে না এই কলকাতায়। নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের জন্য কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে কমিটি ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কারও কোনও প্রস্তাব থাকলে সেখানে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দেন, ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া কোনও বিদেশির নাম থাকবে না। সরকারের দাবি, বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্য গুরুত্ব দিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বিরোধী শিবির এবং ইতিহাসবিদদের মতে, ইতিহাসের জটিল বাস্তবতা সরল রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করা হলে বিতর্ক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউয়ের নামকরণ নিয়ে যে মতভেদ সামনে এসেছে, সেই বিতর্ককেই আরও উসকে দিয়েছে তা।




