পশ্চিমবঙ্গের বন্দর ও উপকূলে নজরদারি জোরদার

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে অবৈধ কার্যক্রম দমন, কর আদায়ের জটিলতা নিরসন এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে বলেন তিনি। একই সঙ্গে কেন্দ্রের সাগরমালা প্রকল্প-২ বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের অংশগ্রহণের বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।
শুভেন্দু অধিকারীর ভাষ্য, ‘কলকাতা পোর্টে যে সব অবৈধ কাজ, লিকেজ, এক শ্রেণির সিন্ডিকেট রাজত্ব করছে বলে খবর আসে। জাহাজ থেকে অবৈধ জিনিস, মাদকদ্রব্য উদ্ধারের খবর আসে। এটা হতো, কারণ, কলকাতা পুলিশ ও সিআইএসএফ-এর অবস্থান দক্ষিণ মেরু উত্তর মেরুর মতো ছিল। যেহেতু এখন ডবল ইঞ্জিন সরকার, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রতি মাসে কলকাতা মিউনিসিপাল কর্পোরেশন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্ট ট্রাস্ট, কাস্টমস, সিআইএসএফ, কলকাতা পুলিশ এবং ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে বৈঠক করবে। অবৈধ কাজকর্ম রোধ এবং কর আদায়ে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলোও পর্যালোচনা করা হবে।’
তিনি জানান, সমুদ্র উপকূল ও সামুদ্রিক খাতসংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
‘মেরিটাইম এলাকায় যে ট্রেনিং ইনস্টিটিউশনগুলো রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলো কার্যত অকার্যকর। এ ক্ষেত্রে আমরা মেরিটাইম ইনস্টিটিউশনগুলোর অধিগ্রহণের ব্যবস্থা করছি।’
রাজ্য সরকার বলছে, উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সমুদ্রতটসংলগ্ন এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নেও দেওয়া হচ্ছে গুরুত্ব। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রের সাগরমালা প্রকল্প-২-এর আওতায় পূর্বে সাগর দ্বীপ থেকে পশ্চিমে ওড়িশা সীমান্তসংলগ্ন উদয়পুর সমুদ্রতট পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
এর আগে রাজ্যে সরকার গঠনের পর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির বার্তা দিয়েছিল রাজ্য প্রশাসন। এবার বন্দর ও উপকূলীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করার কথা জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থাগুলোর মধ্যে নেওয়া হয়েছে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠকের উদ্যোগ।




