ভারতের শিক্ষামন্ত্রীকে ককরোচ পার্টির নেতা
আমাদের জঙ্গি বলছেন, লজ্জা করে না?

অভিজিৎ দীপকে। ছবি: আগামীর সময়
বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন আজ বৃহস্পতিবার পঞ্চম দিনে পা দিল। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এদিন একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্তব্যের কড়া জবাব দেন, তেমনই তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
এদিকে নতুন দলটির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি। সেই কমিটির সামনে হাজিরা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীপকে দাবি করেন, কেন তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, বিষয়টি ‘গোপনীয়’।
সরকারের এই অবস্থানকে কটাক্ষ করে দীপকে বলেছেন, সবকিছুই যদি গোপনীয় হয়, তাহলে নিটের প্রশ্নপত্রও গোপন রাখা উচিত ছিল। তা হলে প্রশ্নফাঁস হতো না, এত আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটত না।
তার অভিযোগ, আন্দোলনের কণ্ঠরোধ করেতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীপকের দাবি, বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা তাকে জানিয়েছেন, তাদের সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট পাকিস্তানের কিছু ব্যবহারকারীও অনুসরণ করছিলেন। তবে সেই কারণেই অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি বলেও অভিযোগ তার।
এই বিতর্কের মধ্যে বুধবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ককরোচ জনতা পার্টিকে জঙ্গিদের বি-টিম বলে কটাক্ষ করেছিলেন। সেই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দীপকে বলেছেন, ‘আমরা কি ভোট চাইছি? আমরা ন্যায়বিচার চাইছি। আমরা করদাতা, আমাদের বাবা-মায়েরাও করদাতা। আমাদের জঙ্গি বলছেন, আপনার লজ্জা করে না?’ এরপরই তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, কৃষকদের জঙ্গি বলা হয়েছে, চিকিৎসকদেরও জঙ্গি বলা হয়েছে। আর কাদের বলা বাকি আছে?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও নিশানা করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তার বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করাতে পারছেন না, অথচ দাবি করেন তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন। তিনি কি প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে পারেন না?
এদিন কংগ্রেস নেতা জয়ারাম রমেশের একটি মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন করা হয় তাকে। জয়ারাম রমেশ বলেছিলেন, ‘সিজেপি যে বিষয়গুলো তুলে ধরছে, শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোকে সেগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। জবাবে দীপকে স্পষ্ট করে দেন, রাজনৈতিক দলগুলো যা খুশি করতে পারে। আমরা ভোটের জন্য এখানে আসিনি, কোনো রাজনৈতিক সমাবেশও করছি না। আমরা ন্যায়বিচারের দাবিতে এখানে এসেছি। তার দাবি, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা এখনো প্রস্তুত। তবে তার আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রয়োজন। দীপকের অভিযোগ, সরকারের তরফে এখনো পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। আলোচনার বদলে আমাদের জঙ্গি বলা হচ্ছে।’
নিট প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই সরব সিজেপি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে অবস্থান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। আন্দোলনস্থল ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে।
গত ১৬ মে সিজেপি আত্মপ্রকাশ করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। দেশের প্রধান বিচারপতিকে ঘিরে এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বেকার যুবকদের ‘আরশোলা’ বা ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তারই প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির উত্থান। ২১ মে ভারতে সিজেপি-র মূল এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ‘ককরোচ ইজ ব্যাক’ নামে নতুন একটি অ্যাকাউন্ট খুলে তারা আবার সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়।




