মোদিবিরোধী জোট শক্ত করার আহ্বান মমতার

কালীঘাটে কথা বলছেন টিএমসি প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য যৌথ মঞ্চের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরেই সমস্ত বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে ভূমিধস পরাজয়ের পর তার দল আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
মমতা বলেছেন, রাজ্যজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমি বাংলার সমস্ত বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং এনজিওগুলোকে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। একটি ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ তৈরি করা যেতে পারে যেখানে বিজেপি-বিরোধী সমস্ত রাজনৈতিক দল একত্রিত হবে। জাতীয় দলগুলোর পাশাপাশি আমি বাংলায় এবং দিল্লিতেও বামপন্থী ও অতি-বামপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাব। কোনো রাজনৈতিক দল যদি এই বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়, আমি আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি। এটা মনে রাখতে হবে যে আমাদের প্রথম শত্রু হলো বিজেপি।
কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ হচ্ছিল, তখন প্রায় চার কিলোমিটার দূরে কালীঘাটে টিএমসি চেয়ারপার্সন নোবেলজয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য তার বাসভবনের কাছে একটি ছোট সমাবেশের আয়োজন করেন। এখানেই তিনি বলেছেন এসব কথা।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, চিন্তা করবেন না। আমরা এই লড়াইটা লড়ব। কপিল সিবাল এবং অভিষেক মনু সিংভিও আমাকে ফোন করেছেন। তাদের সঙ্গে প্রশান্ত ভূষণ এবং মেনকা গুরুস্বামীও এই লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গে আছেন। আমি নিজেও একজন আইনজীবী। কল্যাণ ব্যানার্জীর মতো আরও অনেক নেতা আছেন যারা এই লড়াইটা লড়বেন। আমরা জানি কীভাবে লড়তে হয়।
মমতা আরও দাবি করেছেন, বিরোধী দলের সব জাতীয় নেতা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আমি সোনিয়া জি, রাহুল গান্ধী , খাড়গে জি, উদ্ধব ঠাকরে ও তেজস্বী যাদবের সঙ্গে কথা বলেছি। অখিলেশ যাদব নিজে এখানে এসেছিলেন। আমি হেমন্ত সোরেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেও কথা বলেছি।
এ সময় মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার হঠাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার ভোগ করা বিশেষ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস




