জোটে না থাকার বার্তা আপের
ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের আগে কেজরিওয়ালের সঙ্গে মমতার সাক্ষাৎ

কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করছেন মমতা- কলকাতা সংবাদদাতা
ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে দিল্লিতে আম আদমি পার্টি (আপ) প্রধান ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধীদের ঐক্য এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
জোটের বৃহত্তর বৈঠকে অংশ নিতে রবিবারই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মমতা। সোমবার হতে যাওয়া এই বৈঠকে কংগ্রেসসহ জোটের অধিকাংশ শরিক দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তবে ডিএমকে আগেই জানিয়েছে তারা এতে যোগ দেবে না। এই আবহে মমতার সঙ্গে কেজরিওয়ালের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মমতা-কেজরিওয়াল বৈঠকের পরই বিরোধী শিবিরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিয়েছে আম আদমি পার্টি। দলের মুখপাত্র প্রিয়াঙ্কা কক্কর স্পষ্ট জানান, কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও মঞ্চে তারা থাকবে না। তার অভিযোগ, কংগ্রেস অন্য দলগুলির সঙ্গে জোট করে মূলত নিজেদের শক্তি বাড়ানোর জন্য, দেশের স্বার্থে নয়।
তিনি আরও বলেছেন, দেশের যুবসমাজের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনও দলের সঙ্গে আপ হাত মেলাতে পারে না। তামিলনাড়ুতেও কংগ্রেস জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়েও কংগ্রেস ব্যর্থ বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কোনও প্রশ্নই নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন এই আপ নেত্রী।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই জাতীয় স্তরে বিরোধী ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার পক্ষে কাজ করে আসছেন মমতা। তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, বিরোধী শক্তিগুলোকে এক মঞ্চে এনে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রে দাবি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলাই ইন্ডিয়া জোটের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণেই আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে শরিক দলগুলির মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে বিভিন্ন রাজ্যে আসন সমঝোতা, পারস্পরিক মতভেদ দূর করা এবং সংসদে যৌথ কৌশল তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
অবশ্য জোটের অন্দরে আপের আপত্তি ছাড়াও কিছু মতপার্থক্য সামনে এসেছে। কেরালার রাজনীতি ঘিরে কংগ্রেস ও সিপিএমের মধ্যে সাম্প্রতিক টানাপোড়েন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছে সিপিএম। ফলে বিরোধী শিবিরের ঐক্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে বিজেপি সংসদ সদস্য সৌমিত্র খাঁ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে একসময় কংগ্রেসকে দুর্বল করে দেওয়া তৃণমূলই এখন আবার তাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে। এই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ সাধারণ মানুষ কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে এই পরিস্থিতিতে দিল্লির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন এবং শরিকদের সমন্বয় রক্ষায় কী ভূমিকা নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুখেন্দু দাস মন্তব্য করেন, বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই গড়ে তুলতে হলে বিরোধী দলগুলিকে নিজেদের মতভেদ দূরে সরাতে হবে এবং এই বৈঠক সেই পরীক্ষার বড় মঞ্চ।





