গাড়ি চাপা দিয়ে ৩ জনকে হত্যার পর যুবক, ‘বাবা সামলে নেবেন’

স্কুটারকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
ভারতের কেরালায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ি দিয়ে একটি স্কুটারকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে তিন তরুণ-তরুণীর। এ ঘটনায় গাড়িচালক ১৯ বছর বয়সী সুহাইল সাজিভের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার রাত ১টার দিকে দেশটির কেরলা রাজ্যের কোচির নেদুমবাসেরি বিমানবন্দর সড়কে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
এ ঘটনার পর তার ‘বাবা সব সামলে নেবেন’ বলে মন্তব্য করেন ওই কিশোর। তার এ মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে ক্ষোভ।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন— ওয়ানাড়ের মাদাক্কিমালার বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী দেবিকা, পালাক্কাডের ২২ বছর বয়সী গোপিকা এবং কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুর ২১ বছর বয়সী ইজাজ।
তারা তিনজনই কাক্কানাডের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। চা পান করতে তারা বিমানবন্দর এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনাস্থলেই গোপিকা ও দেবিকার মৃত্যু হয়। ইজাজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তবে তাকেও বাঁচানো যায়নি।
পুলিশের এফআইআর অনুযায়ী, দ্রুতগতির মিনি কুপারটি পেছন থেকে তিন আরোহীসহ একটি স্কুটারকে ধাক্কা দেয়। এতে স্কুটারের আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। গাড়িটি প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত স্কুটারটিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার পর থামে।
পুলিশ বলছে, দুর্ঘটনার পর সুহাইলকে খুব একটা অনুতপ্ত মনে হয়নি। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘রাস্তা কীসের জন্য? গাড়ি চালানোর জন্য, তাই না?’
তিনি পুলিশকে আরও বলেছেন, তার বাবা বিষয়টি সামলে নেবেন। সংবাদমাধ্যমে তার এসব মন্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, দুর্ঘটনার আগে সুহাইল একাধিক বারে মদ্যপান করেছিলেন।
কেরালায় মদ্যপানের আইনগত ন্যূনতম বয়স ২৩ বছর। ফলে ১৯ বছর বয়সী কাউকে মদ পরিবেশন করা বেআইনি।
ঘটনার পর কেরালার আবগারি ও করবিষয়ক মন্ত্রী এম লিজু ওই তরুণকে মদ পরিবেশনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র : এনডিটিভি




