তাজমিন হত্যা : কথিত প্রেমিক রাজু কক্সবাজারে আটক

সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় আলোচনায় আসা কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু চৌধুরীকে কক্সবাজার থেকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার রাত ১০টার দিকে শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে এবং তাজমিন হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র ও হোটেলকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাজমিনকে নিয়ে কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন রাজু। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় তাজমিনের নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’, বয়স ১৮ বছর। সেখানে তাকে রাজুর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। রাজুর পরিচয়ে লেখা হয়, বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেলের এক কর্মচারী জানান, পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর লেখা রয়েছে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজেও তাদের একসঙ্গে বের হতে দেখা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাজমিন কক্সবাজারে যান। পরে কুমিল্লায় ফেরার জন্য রাজুই তাকে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসের টিকিট কেটে দেন। কুমিল্লায় পৌঁছে বাস থেকে নামার পর বাড়ি ফেরার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন তাজমিন।
পুলিশের দাবি, চালক সুমন মিয়া তাকে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানখেতে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে ওই ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলীমের করা হত্যা মামলায় অটোরিকশাচালক সুমনকে গত শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের আগে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের সরাসরি অবস্থান পাঠিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় তার বাবা বার্তাটি দেখতে পাননি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশায় ওঠার পরও রাজুর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হচ্ছিল তাজমিনের। পরে রাতে তার সরাসরি অবস্থান জানানোর সুবিধাটি বন্ধ হয়ে গেলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়ার পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তাজমিন। পুলিশের দাবি, প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তিনি। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে কক্সবাজারে আসেন।
রাজুকে আটকের পর তাজমিনের কক্সবাজারে যাওয়া, সেখানে হোটেলে অবস্থান এবং কুমিল্লায় ফেরার যাত্রাপথ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে রাজুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী এবং তাজমিন হত্যাকাণ্ডে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি পুলিশ।




