দু’দফা ভোট শেষে তৃণমূলের দাবি, ২৩০ পার করবে জোড়াফুল

ভোট দিতে এসে এভাবেই ক্যামেরাবন্দি হন কয়েকজন নারী ভোটার। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩০ আসন পার করবেই জোড়াফুল— দু’দফার ভোট শেষে এমনটাই দাবি করছে তৃণমূল।
ক্ষমতাসীন দলের দাবি, দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে ওঠে এসেছে এই হিসাব। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও গতকাল বুধবার বিকেলে জানিয়েছেন, তার দল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেই।
এই নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম অস্ত্র ছিল অনুপ্রবেশের অভিযোগ। অন্যদিকে, তৃণমূলের কাছে হাতিয়ার ছিল, এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে ‘হেনস্থা’ এবং বাঙালি আবেগ।
মূলত এই বিষয়গুলোর উপরেই নির্বাচন হয়েছে এ বার। তাতে তৃণমূল বার বার ‘বহিরাগত’ বলে আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপিকে।
দু’দফার নির্বাচন শেষে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এ বার আসন সংখ্যার দিক থেকে সর্বকালীন রেকর্ড গড়বে তৃণমূল।
দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই ভোটের ফল হবে সাধারণ মানুষের ‘ক্রোধের রায়’। এসআইআরের নামে ‘অত্যাচার’ এবং ‘বাংলাদেশি’ বলে ধারাবাহিক আক্রমণ এ বার বিজেপির জন্য ব্যুমেরাং হয়ে গিয়েছে বলে দাবি শাসকদলের।
মুখ্যমন্ত্রী মমতার আসনে তার বিরুদ্ধে লড়েন বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
এ বারের নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ভবানীপুর আসনের ভোট। মুখ্যমন্ত্রী মমতার আসনে তার বিরুদ্ধে লড়েন বিদায়ী বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নন্দীগ্রাম আসনেও লড়েছেন শুভেন্দু। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে মমতাকে পরাস্ত করেছিলেন তিনি। এ বার সেখানে শুভেন্দুর বিপরীতে তৃণমূল প্রার্থী করে পবিত্র করকে। ভোটের ঠিক আগেই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি।
তৃণমূলের দাবি, তাদের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে করা হয়েছে এই দুই আসন নিয়েও পর্যালোচনা। তাতে দেখা গিয়েছে, ভবানীপুর নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণই নেই তৃণমূলের। কারণ, মমতার নিজের আসন ভবানীপুরে শুভেন্দুর কোনো ‘অস্তিত্বই’ নেই।
অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে বিরোধী পক্ষের তুলনায় কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে তৃণমূল— দলীয় বিশ্লেষণে এমনটাই উঠে এসেছে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে এ-ও জানানো হয়েছে, ৪ মে, ভোটগণনার দিন রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং ‘ডিজে’ দুই-ই বাজবে। যে কথা ভোটের প্রচার পর্বে বিভিন্ন সময়ে বলতে শোনা গিয়েছে অভিষেককে।
তৃণমূলের দাবি, তারা রাজ্যের নারী ভোটারদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে পেরেছে।
তৃণমূলের দাবি, তারা রাজ্যের নারী ভোটারদের সঙ্ঘবদ্ধ করতে পেরেছে। যে জেলাগুলোতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল, সেখানেও পরিযায়ী শ্রমিকেরা তৃণমূলের সাফল্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলে মনে করছেন তারা।
এর আগে দুই দফায় ভোট হয় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। ভোট হয়েছে রাজ্যের মোট ২৯৪টি আসনে।প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটার দিয়েছেন ভোট।
সূত্র: আনন্দবাজার





