পলিটিক্যাল ভিলেনদের কীভাবে নাস্তানাবুদ করলেন নায়ক বিজয়

জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত পাঁচ দিন ধরে যে টানটান উত্তেজনা চলছিল, তা যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানাবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে গোলকধাঁধায় পড়েছিলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর।
তবে সব বাধা পেরিয়ে আজ রবিবার সকালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে নিজের নায়কের কাহিনী পূর্ণ করলেন বিজয়।
ভারতের চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম প্রধান বিজয়কে শপথবাক্য পাঠ করান।
গত ৪ মে তামিলনাড়ু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজয়ের দল টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন।
এর মধ্যে বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় দলের আসন দাঁড়ায় ১০৭-এ। জয়ের জন্য তার আরও ১১ জন এমএলএর (আইনসভার একজন সদস্য) সমর্থন প্রয়োজন ছিল।
ঠিক যেন বিজয়ের ব্লকবাস্টার সিনেমা বিগিলের মতো, যেখানে তিনি ১১ জন আন্ডারডগ খেলোয়াড় নিয়ে ফুটবল দল সাজিয়েছিলেন। বাস্তবেও তাকে মাত্র ১১ জন এমএলএর জন্য ঘুরতে হয়েছে হন্যে হয়ে।
প্রথম দিকে বিজয়ের পাশে দাঁড়ায় কংগ্রেস। তবে শর্ত ছিল, বিজয়ের জোটে যেন সাম্প্রদায়িক শক্তি না থাকে। এরপর দুটি বাম দল তাদের মোট ৪ জন এমএলএ নিয়ে বিজয়কে সমর্থন দেয়।
তাদের লক্ষ্য ছিল রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন ঠেকানো। এতে বিজয় জয়ের খুব কাছে পৌঁছালেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে তখনও কিছুটা বাকি ছিল।
গত শুক্রবার ছিল নাটকের চরম মুহূর্ত। বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচিকে (ভিসিকে) দলের পক্ষ থেকে বিজয়কে সমর্থন দেওয়ার একটি চিঠি অনলাইনে প্রকাশ হওয়ার পর অবশ্য তা মুহূর্তেই গায়েব হয়ে যায়।
অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (আইইউএমএল) প্রথমে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও পরে তা অস্বীকার করে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় এএমএমকে প্রধান টিটিভি দিনাকরণকে নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, তার দলের একমাত্র এমএলএর জাল সমর্থনপত্র তৈরি করেছে বিজয়ের সমর্থকরা।
এদিকে, রাজ্যপাল আরলেকার বারবার বিজয়কে ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। তিনি জানান, লিখিত প্রমাণ ছাড়া তিনি বিজয়কে সরকার গড়তে ডাকবেন না।
শনিবার বিকেলে সব ধোঁয়াশা কেটে যায়। ভিসিকে এবং আইইউএমএল আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়কে সমর্থন দেওয়ায় তার শক্তির পাল্লা দাঁড়ায় ১২০-এ।
এদিন সন্ধ্যায় বিজয় ১২০ জন এমএলএর স্বাক্ষর নিয়ে রাজভবনে গেলে রাজ্যপাল অবশেষে সাড়া দেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় সরকার গঠনের।
রবিবার সকালে বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এমজিআর এবং জয়ললিতার পর তিনিই প্রথম কোনো মেগাস্টার যিনি সাফল্যের সঙ্গে রুপালি পর্দা থেকে রাজনীতির মসনদে বসলেন।
বিজয়ের সঙ্গে আরও ৯ জন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। যার মধ্যে একমাত্র নারী মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন এস কীর্তনা। আগামী ১৩ মের মধ্যে বিজয়কে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।








