পশ্চিমবঙ্গ
কোমরে দড়ি বেঁধে অভিযুক্তকে ঘোরানো, পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা আদালতের

সংগৃহীত ছবি
প্রথমবার ক্ষমতায় এসে এবার অপরাধীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণের অভিযোগে আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে বিজেপি সরকারের পুলিশ। গ্রেপ্তার করে কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানোর ঘটনায় প্রশ্নের মুখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন ঘটনায় গুরুতর পুলিশি অভিযোগ থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি অভিযান শুরু করেছে বিজেপি সরকার। হাওড়া, সালকিয়া, উলুবেড়িয়া থেকে কাঁচরাপাড়া ও হাসনাবাদ— একাধিক জায়গায় অভিযুক্তদের সঙ্গে একই ধরনের আচরণ করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রিজন ভ্যানে তোলার আগে ও পরে কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে রাস্তায় হাঁটানো হয়েছে। এ সময় আশপাশের মানুষও তাদের উদ্দেশে নানা কটুক্তি করেছেন।
এবার এমনই এক ঘটনায় পুলিশের এই আচরণে সম্মানহানির অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এক অভিযুক্ত। সেই মামলার শুনানিতে শুক্রবার ক্ষোভ প্রকাশ করেন আদালত। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানান, ‘অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা ও বিচার প্রক্রিয়া চালানো যেতে পারে, কিন্তু তার সম্মানহানি করা যায় না।’
রাজ্য পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়ে আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ, সরকারের হাতে যখন আইন ও বিচারব্যবস্থার ক্ষমতা রয়েছে, তখন কেন প্রকাশ্যে অপরাধীর কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো হবে?
আদালত আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা এবং তা নিয়ে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।




