বন্ধ কারখানা চালুর বহুমুখী উদ্যোগ

বন্ধ ও অলাভজনক সরকারি কারখানাগুলোয় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগির রোড শোর আয়োজন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ কথা জানিয়েছেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৯৭টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন বা বিসিকের ৩৮২টি, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের পাঁচটি, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের অধীন চিনিকল ছয়টি এবং বিএসইসি বা বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আরও জানিয়েছেন, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্ধ কারখানা চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, রুগ্ণ ও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালুর করতে সরকার সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এর মাধ্যমে রুগ্ণ শিল্প পুনরুজ্জীবন, বাজার স্থিতিশীলতা ও জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা আবার চালু এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা ও ঋণ তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই বিশেষ অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে নতুন করে প্রায় ২৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২৩ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এই তহবিলের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানালেন, এই ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশাল তহবিলের বড় অংশ জোগান দেবে দেশের
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এবং বাকি অংশ আসবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো দেবে ৪১ হাজার কোটি টাকা এবং ১৯ হাজার কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে।
এই বহুমুখী অর্থায়নের ফলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং বাজার চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি বিশাল কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।




