অর্থ উঠানোর পর ব্যবসায় ধস

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কৃত্রিম আর্থিক হিসাব দেখিয়ে শেয়ারবাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার অভিযোগ বেশ পুরনো। এমন সুযোগ নিয়ে বাজারে আসা বহু কোম্পানি এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে। এ তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস। দেশে ওষুধের বিশাল বাজার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার সম্ভাবনা দেখিয়ে তারা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে টাকা তুলেছিল। কিন্তু অর্থ সংগ্রহের পর থেকেই কোম্পানিটির বিক্রি ও মুনাফায় ধস নেমেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নাজুক অবস্থা উদ্বেগের মধ্যে ফেলেছে বিনিয়োগকারীদের।
এ বিষয়ে ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, গত দুই কমিশনের মেয়াদে অসংখ্য ভুয়া কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম প্রতিবেদন দেখিয়ে এসব কোম্পানি বাজার থেকে টাকা হাতিয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জ বারবার সতর্ক করলেও খায়রুল হোসেন ও শিবলী-রুবাইয়ত-উল-ইসলামের কমিশন তাতে কর্ণপাত করেনি। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। সুবিধাভোগীরা বেনামে শেয়ার বিক্রি করে টাকা তুলে সটকে পড়েছে, তাই কোম্পানিগুলোর বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে তাদের কিছু যায় আসে না।
ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল সিলকো ফার্মা। প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কারখানার ভবন নির্মাণে ১৪ কোটি ৪৭ লাখ, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৯ কোটি ৭৪ লাখ, ডেলিভারি ভ্যান কেনায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ এবং আইপিও ব্যয়ে ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু বাজারে আসার পর থেকেই তাদের পারফরম্যান্স নিম্নমুখী। শেয়ারবাজারে আসার আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সিলকো ফার্মার শেয়ারপ্রতি ১.৬০ টাকা করে নিট ১০.২৯ কোটি টাকার মুনাফা হয়েছিল, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নেমে এসেছে ০.৪১ টাকা করে ৪.২৭ কোটি টাকায়।
মুনাফার পাশাপাশি আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে পণ্য বিক্রিও। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সিলকো ফার্মার পণ্য বিক্রি ছিল ৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৪৩ কোটি ১৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, আট বছরের ব্যবধানে বিক্রি কমেছে ৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ৫২ শতাংশ। অথচ আইপিও-পূর্ববর্তী সময়ের ৬৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন ২০২৫ সালের জুনে বেড়ে ১০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা হয়েছে। মূলধন ৬১ শতাংশ বাড়লেও বিক্রি নেমেছে অর্ধেকের নিচে।
মুনাফা তলানিতে নামায় শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রাপ্তি প্রায় শূন্যের কোঠায়। টানা পাঁচ বছর লভ্যাংশ কমিয়ে ২০২৪ সালে তা ১ শতাংশে নামানো হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে পরিচালকদের বাদ দিয়ে শুধু সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১ দশমিক ১০ শতাংশ বা ৭৪ লাখ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও তা যথাসময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। এ কারণে গত ৩ মার্চ ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে পাঠানো হয়েছে কোম্পানিটিকে।
এ ছাড়া সিলকো ফার্মার আর্থিক হিসাবে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান। তাদের ২০ লাখ টাকার অবণ্টিত লভ্যাংশের মধ্যে ৮ লাখ টাকা তিন বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী এটি ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করেনি। পাশাপাশি ডব্লিউপিপিএফের ৩৯ লাখ টাকার হিসাবও নিরীক্ষা করা হয়নি।
এসব বিষয়ে কোম্পানির সচিব টিংকু রঞ্জন সরকার আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সবকিছু নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেই আছে। এগুলো অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই, তাই নতুন করে বলারও কিছু নেই।




