যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত
হরমুজে জাহাজ ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত ইরানের
- হরমুজের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আইআরজিসির হামলা
- কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক হামলা
- ইরানের কেশম, বান্দার আব্বাস ও বান্দার লেঙ্গেহে বিস্ফোরণ
- সিরি, কোনারাক, চাবাহার ও শিরাজ শহরে মার্কিন হামলা
- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা বুশেহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়

১৩ জুলাই ওমান উপসাগরে ইরানের হামলায় একটি তেল ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। ছবি : রয়টার্স
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ও দ্বীপগুলোয় দশম রাতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলার খবর দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির আশপাশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ কেশমে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর বান্দার আব্বাস ও বান্দার লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রণালিটির ওপর নজরদারি করা সিরিকে আবারও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্য দিয়ে সোমবারেও রাতের হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সিস্তান প্রদেশের কোনারাক ও চাবাহার শহরেও আরও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শিরাজেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকা বুশেহরে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার শব্দ শোনা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তেহরানের ‘সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার’ লক্ষ্যে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ইরানে আরও এক দফা হামলা সম্পন্ন করেছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ দফার হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ‘ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, সামুদ্রিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণস্থল এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তারা বলেছে, মে মাসের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ‘প্রায় ৯০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ৪৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল’ পারাপারে সহায়তা করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘প্রণালিটি দিয়ে অবাধে ও উন্মুক্তভাবে চলাচল করতে চাওয়া বেসামরিক নাবিকদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক আগ্রাসনের জন্য ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
অন্যদিকে, পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ‘অনিরাপদ দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে চলাচলের’ চেষ্টা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা করেছে তারা। এতে জাহাজটিতে ‘ভয়াবহ আগুন’ লেগেছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল জাহাজ দুটির নাবিকদের সরিয়ে নিয়েছে।
জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোকে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর মিথ্যা তথ্য’ বিশ্বাস না করতে এবং বিপজ্জনক হিসেবে বর্ণিত পথ এড়িয়ে চলতে আবারও সতর্ক করেছে আইআরজিসি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘অঞ্চলে আমেরিকার অপকর্ম যতদিন চলবে, ততদিন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। এ অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল, গ্যাস বা এক প্যাকেট রাসায়নিক সারও রপ্তানি করা হবে না।’
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতের আরিফজান শিবিরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের হিমার্স ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তেহরান এটিকে অঞ্চল জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সামরিক সম্পদে চলমান হামলা অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে আইআরজিসিও কুয়েতে আলাদা হামলার দাবি করেছে। বাহিনীটির ভাষ্য, তারা আহমেদ আল-জাবেরের মার্কিন ঘাঁটিতে একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, একটি এফপিএস-১১৭ রাডার, একটি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি বিমান প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।
সর্বশেষ প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযানে বাহরাইনের মুহাররাক এলাকায় একটি মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।
আইআরজিসির দাবি, একটি সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় বাহরাইনের আল-রিফায় একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তী অভিযানের পথ সুগম করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
এদিকে, নির্মাণাধীন ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।




