মানুষের উপকারের নেশা দুই চালকের

মাইলফলকের আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করছেন খালেদ ও তামিম
সারা দিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের খরচ জোগান। দিনশেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা থাকলেও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সম্মান গ্রামের দুই অটোরিকশাচালক খালেদ আলী ও তামিম ইকবালের কাছে মানুষের সেবাই যেন সবচেয়ে বড় প্রশান্তি। অবসর পেলেই তারা হাতে তুলে নেন দা, কোদাল কিংবা বেলচা। নেমে পড়েন রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়, ড্রেনের আবর্জনা ও মাইলফলক পরিষ্কার কিংবা ঝরে পড়া গাছের ডাল সরানোর কাজে। কোনো পারিশ্রমিক বা পুরস্কারের আশায় নয়, শুধু মানুষের উপকার করার ইচ্ছায় তারা এসব কাজ বেছে নিয়েছেন।
স্থানীয়দের কাছে খালেদ ও তামিম এখন পরিচিত মুখ। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে প্রায়ই দেখা যায় তাদের। কখনো রাস্তার দুই পাশের আগাছা কেটে চলাচলের পথ নিরাপদ করছেন, কখনো ড্রেন পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছেন। আবার কোথাও রাস্তার দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড ময়লায় ঢেকে গেলে তাও পরিষ্কার করছেন, যাতে পথচারীদের দেখতে সুবিধা হয়। ঝড়-বৃষ্টির পর সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছের ডাল বা ঝুলে থাকা ডাল নিজেরাই সরিয়ে ফেলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ দুই বন্ধু নিজেদের উদ্যোগে এমন সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছেন। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সহায়তা ছাড়াই স্বেচ্ছাশ্রমে তারা জনস্বার্থে করছেন এসব কাজ। তাদের এই উদ্যোগে এলাকার মানুষ যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনি অন্যরাও হচ্ছেন অনুপ্রাণিত।
খালেদ আলীর ভাষ্য, ‘অটোরিকশা চালিয়েই আমাদের সংসার চলে। কাজের ফাঁকে যখন একটু সময় পাই, তখন মানুষের উপকার হয় এমন কিছু করার চেষ্টা করি। রাস্তা পরিষ্কার থাকলে সবাই নিরাপদে চলতে পারে, ড্রেন সচল থাকলে জলাবদ্ধতা কমে। মানুষের মুখে হাসি দেখলে আর দোয়া পেলে মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।’
‘কেউ আমাদের এ কাজ করতে বলেনি। নিজের বিবেক থেকেই করি। সমাজটা যদি একটু পরিষ্কার থাকে, মানুষ যদি স্বস্তিতে চলাফেরা করতে পারে, সেটিই আমাদের আনন্দ। ভালো কাজ করলে অন্যরাও এগিয়ে আসবে, এ বিশ্বাস থেকেই কাজ করে যাচ্ছি’— বললেন তামিম ইকবাল।
ছেলের উদ্যোগের প্রশংসা করে খালেদের বাবা আবদুল মজিদ বলেছেন, ‘আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে। সংসার চালানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করে, তারপরও মানুষের জন্য সময় বের করে। একজন বাবা হিসেবে এতে আমি গর্ববোধ করি। আল্লাহ যেন ওদের এই ভালো কাজ কবুল করেন।’




