ওয়্যারড্রোবের নিচে স্কুলছাত্রীর লাশ, সন্দেহভাজন নারীকে পিটিয়ে হত্যা

নিহত ফারজানা (৯)। ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নিখোঁজ শিশু ফারজানার (৯) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর পুলিশের হেফাজত থেকে সন্দেহভাজন নারীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে আহত হয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলামসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য।
সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামের ঘটনা এটি। ওই গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা সুমাইয়ার বাড়ির একটি ওয়্যারড্রবের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মরদেহ। নিহত ফারজানা এই গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে। সে পড়ত ৬৯ নম্বর কাজলা-কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার সকাল ৮টার দিকে স্কুলে যেতে বের হয় ফারজানা। দুপুরে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা স্কুলে খোঁজ নেন। জানতে পারেন, সেদিন সে স্কুলে পৌঁছায়নি। পরে স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর ঘটনা জানায় পুলিশকে।
পুলিশ গিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে সুমাইয়ার বাড়িতে অভিযান চালায়। তার ঘরের ওয়্যারড্রবের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ফারজানার গলাকাটা মরদেহ।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। সুমাইয়াকে পুলিশ আটক করে নিতে চাইলে হামলে পড়েন আশপাশের লোকজন। তাকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আটককে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আমিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি।’
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।




