পরিবেশ দিবসে প্রধানমন্ত্রী
জলবায়ু মোকাবিলায় অগ্রাধিকার পাবে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ

সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে। কেননা ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি হয়ে পড়েছে কৃষিকে টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভিত্তিতে পুনর্গঠনের। এ জন্য নিতে হবে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বাণীতে এমনটাই বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তার ভাষ্য, ‘বর্তমানে জলবায়ু সংকট সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, দাবদাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বজুড়ে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।’
বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের মধ্যে রয়েছে বলে জানাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-২০২৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ উচ্চ জলবায়ু ঝুঁকির সম্মুখীন। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণ করছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলছিলেন, ‘এ লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। একইসঙ্গে সারা দেশে শুরু হয়েছে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ।’
কার্বন ক্রেডিট ও বৈশ্বিক কার্বন মার্কেটের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হচ্ছে।’
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি জানাচ্ছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত এখন বিশ্ববাসীর জন্য এক কঠিন বাস্তবতা। এই প্রেক্ষাপটে দিবসটির উদযাপন বহন করছে বিশেষ গুরুত্ব। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ঘোষিত এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ আরও বেগবান করার আহ্বান জানিয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে।
বাণীতে সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহিষ্ণু বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সার্বিক সাফল্য কামনা করেন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির।




