নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালাল এআই!

হাগিং ফেসের পর আরও চার প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট। ছবি: সংগৃহীত
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় ওপেনএআইয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এআই এজেন্ট। পরে জনপ্রিয় এআই উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে এটি। পাশাপাশি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের উন্মুক্ত অনলাইন সেবায় প্রবেশের চেষ্টাও করেছিল সেই এআই। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করেনি ওপেনএআই।
মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রকাশিত এক হালনাগাদ ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তদন্তে দেখা গেছে এআই মডেলটি ইন্টারনেটে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা কিছু লগইন তথ্য খুঁজে পেয়ে সেগুলো ব্যবহার করে বাইরের কয়েকটি সেবার ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিল।
ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশের ঘটনায় এআই মডেলটি চারটি ভিন্ন সেবার চারটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যাতে এজেন্টের কার্যক্রমের উৎস আড়াল করা যায়। আরেকটি অ্যাকাউন্ট তথ্য সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। বাকি দুটি অ্যাকাউন্টে শুধু তথ্য দেখার অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করা হয়েছিল এবং সেগুলো হাগিং ফেসে অনুপ্রবেশে ব্যবহার করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলোর মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বা তাদের অন্য কোনো ব্যবহারকারীর ওপর প্রভাব পড়েছে কিনা, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
গত সপ্তাহে ওপেনএআই স্বীকার করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তাদের চোখ এড়িয়ে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হয়ে হাগিং ফেসে প্রবেশের উপায় খুঁজে নেয় তাদের দুটি মডেল। ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই এজেন্টকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরবর্তী বড় ধাপ হিসেবে দেখা হলেও, এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ।
এ ঘটনার পর ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। তার ভাষ্য, নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার পরিবেশ বা স্যান্ডবক্স ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কাজ চলছে।




