ইস্তফার ১৫ দিন পর নিট বিতর্কে ধর্মেন্দ্র
- ‘তরুণদের ভুল বোঝানো হয়েছিল’

ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ১৫ দিন পর নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং জেন জি-র ছাত্র আন্দোলন নিয়ে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার ভুবনেশ্বরের জিএম ইউনিভার্সিটির একটি অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন যে, নিট আন্দোলনকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। একই সঙ্গে নিজের পদত্যাগকে ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত না করার কথাও জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান।
উল্লেখ্য যে, গত ২৫ জুলাই জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বে চলা টানা বিক্ষোভের মধ্যেই চাপে পড়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়েন ধর্মেন্দ্র। নিট প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে তার পদত্যাগের দাবিও জোরালো হয়ে ওঠে। তবে ইস্তফার পর এই প্রথম কোনও প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য সামনে এল। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্র বলেন, জেন জি বা বর্তমান তরুণ প্রজন্ম তাদের সন্তানের মতোই। তাঁর আরও অভিযোগ, কিছু মানুষ সেই প্রজন্মকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। নিজের কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা বা স্বার্থ ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি। তরুণদের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে ধর্মেন্দ্র বলেন, ভারতে প্রতি বছর অন্তত ২ কোটি শিশুর জন্ম হয়। গত এক দশকে প্রায় ২০ কোটি শিশু জন্ম নিয়েছে। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব আশা ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে।
এই প্রজন্মই ভবিষ্যতে ভারতকে বিশ্বগুরু হিসেবে গড়ে তুলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই কারণেই শিক্ষামন্ত্রীর পদকে নিজের কাছে কখনও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি বলেও জানান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এদিন অন্য একটি অনুষ্ঠানে ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়ককেও আক্রমণ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। সম্প্রতি বিমানবন্দর এলাকায় বিজেডির যুব ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। আর সেই প্রসঙ্গ তুলেই ধর্মেন্দ্র বলেন, তিনি কৃষকের ছেলে। তাঁকে ফিরে যেতে বলা হলেও তিনি বারবার ওড়িশায় ফিরে আসবেন। নবীন পট্টনায়ক তাঁকে ওড়িশার মানুষের জন্য ‘লজ্জা’ এবং ‘বাজে মানুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন বলেও দাবি করেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর কথায়, রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ওড়িশার মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোনও ভাবেই শেষ হয়ে যাবে না কখনও। তিনি আরও জানান যে,তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে যোগাযোগ করে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।




