শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যু এড়িয়ে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা মোদির

রাজধানীতে দিল্লিতে উত্তাল ছাত্র বিক্ষোভ এবং সংসদে হট্টগোলের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে দেশের যুবসমাজের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে মোদি লিখেছেন, আমাদের যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে বড় আর কিছুই নেই। প্রশ্নফাঁস মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট-ট্রাক কোর্ট বা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের দ্রুত এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্রাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।
তিনি উল্লেখ করেছেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে এটি সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপেরই অংশ।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের নেওয়া পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা এটি। যারা আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী মোদির এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন বিরোধী দলগুলো এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে বিক্ষোভ করছে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে।
বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বুধবার দাবি করেছেন, গত ১০ বছরে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত একটি মামলাতেও কেউ সাজা পায়নি। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সাজা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ আদালত গঠনের ঘোষণা দিলেন মোদি।
এর আগে, মঙ্গলবার এনডিএ বৈঠকে মোদি প্রশ্নফাঁস ইস্যুটিকে বড় অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা সংসদে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বক্তব্য এবং সোমবার রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে।
বর্তমানে সংসদে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। বিরোধী দল ও সিজেপি বিক্ষোভকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে। সরকার পক্ষ বিতর্কে রাজি হলেও বিরোধীরা পদত্যাগের দাবিতে আলোচনা আটকে দিচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে।
সূত্র- এনডিটিভি




