ভারতে কংগ্রেস নেতা ও তার ছেলেকে গুলি- কুপিয়ে হত্যা

সংগৃহীত ছবি
ভারতের স্বাধীনতা দিবসের রাতেই নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার রাতে নাগাদি সংলগ্ন এলাকায় গাড়ি থামিয়ে কংগ্রেস নেতা আনিসুর
রহমান ও তার ছেলে আবু সুফিয়ানকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নাকাশিপাড়ার হরনগর ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
জানা যায়, নিহত আনিসুর রহমানের বয়স ৫৫ বছর। তিনি প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য এবং নদিয়া জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একসময় নাকাশিপাড়া ব্লক কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। তার ছেলে আবু সুফিয়ানের বয়স মাত্র ২৪ বছর। তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, শনিবার রাতে বেথুয়াডহরি বাজার থেকে গাড়িতে করে বাড়ির দিকে ফিরছিলেন বাবা ও ছেলে। নাগাদি এলাকায় পৌঁছতেই কয়েকজন তাদের গাড়ির পথ আটকায়। অভিযোগ, প্রথমে তাদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। এরপর গুলি চালিয়ে দু’জনকে গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলেই দু’জনেরই মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। রাজনৈতিক আধিপত্যের দ্বন্দ্ব, পুরনো বিবাদ অথবা ব্যক্তিগত শত্রুতা সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, এলাকায় আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে কংগ্রেসের সংগঠন শক্তিশালী হয়ে ওঠার কারণেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এই হামলা হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও নৃশংস বলে উল্লেখ করে বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য এই জোড়া খুন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সামনে আনছে। একই পরিবারের বাবা ও ছেলেকে এভাবে হত্যার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে।






