তৃণমূলে চাপ বাড়াচ্ছে সই জালিয়াতি মামলা, সিআইডির ডাকে অভিষেক-কুণাল

সংগৃহীত ছবি
সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে রবিবার আবারও সিআইডির মুখোমুখি হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছান তিনি। নিরাপত্তাপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তদন্তকারীদের সামনে হাজির হন তিনি।
তদন্ত সূত্রের দাবি, গত বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জেরা করা হয়েছিল অভিষেককে। সেসময় একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলেই জানায় তদন্তকারী সংস্থা।
এই আবহে রবিবার একই মামলায় তলব করা হয়েছে তৃণমূল বিধায়ক ও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকেও। তদন্তের স্বার্থে দুই নেতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও এ বিষয়ে সিআইডির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের জেরা শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কালীঘাটে গিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এরপরই তাকে হাজিরার নোটিস পাঠানো হয় আবার। তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। এরই মধ্যে কুণাল ঘোষের পাশাপাশি তৃণমূলের আরও কয়েকজন নেতার নাম তদন্তে উঠে এসেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক উদয়ন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বারবার তলবের অর্থ হলো এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
কলকাতার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক অরিন্দম মুখোপাধ্যায় মনে করেন, এই মামলার অগ্রগতি রাজ্যের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে আগামী দিনে। তাই সব পক্ষের নজর ভবানী ভবনের দিকে এখন।
যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষ্য, আইন মেনেই তদন্তকারীদের সামনে হাজির হচ্ছেন তিনি। প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের অভিযোগও তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে বিজেপির অনেকেরই দাবি, সই সংক্রান্ত বিতর্কে প্রকৃত সত্য সামনে আনা জরুরি এবং নিরপেক্ষভাবে শেষ হওয়া উচিত তদন্ত।


