পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে তিন হোল্ডিং সেন্টারে ৩৮৩ জন ‘অনুপ্রবেশকারী’

বসিরহাটের হোল্ডিং সেন্টার অবৈধ ‘অনুপ্রবেশকারী’। ছবি : আগামীর সময়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটে অবৈধ অনুপ্রবেশের সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখার প্রক্রিয়া চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
স্বরূপনগর ও বাদুড়িয়া থানার অধীনে থাকা তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে মোট ৩৮৩ জনকে রাখা হয়েছে। এদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। সূত্র অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি থানায় একটি করে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সন্দেহভাজনদের রাখা হবে এবং পরিচয় যাচাই করা হবে।
এদিকে বসিরহাট মহকুমার বিথারী- হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাকিমপুর চেকপোস্টে নতুন করে ৪৫ জন বাংলাদেশি নাগরিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানা যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছে বিএসএফ। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
বিএসএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া চলবে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি ও এই ধরপাকড়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একাংশের মতে, অনুপ্রবেশ রোধে কড়া অভিযান চালানো হচ্ছে, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে রাখার ঘটনা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বসিরহাটের তিনটি কেন্দ্রে সর্বাধিক সংখ্যক (প্রায় ৩৮৩জন) নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, মুর্শিদাবাদে ১৯ জন, মালদায় ৯ জন এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৮ জন নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নথিপত্রহীন অভিবাসীদের যত দ্রুত সম্ভব দেশ ছাড়ার জন্য সতর্ক করেছেন, অন্যথায় সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেছেন, ওরা কি আমাদের শ্বশুরবাড়ির লোক যে তাদের খাবার, পোশাক এবং ওষুধের খরচ দেশকে বহন করতে হবে?
যদিও পশ্চিমবঙ্গের কিছু মানবাধিকার সংগঠন বলছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকরাও হেনস্তা হচ্ছেন, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে যাচাই ছাড়া এবং আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই পুশব্যাক করা হচ্ছে।


