নিজেকে ‘তেলাপোকা’ ঘোষণা করে তরুণদের পাশে সোনম ওয়াংচুক

সোনম ওয়াংচুক নিজেকে বললেন ‘সম্মানসূচক তেলাপোকা’
অনলাইনের নিছক এক ঠাট্টা-তামাশা যে লাখ লাখ মানুষের প্রিয় সংগঠনে রূপ নিতে পারে, তা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আজ হাতেনাতে প্রমাণ করে দিয়েছে। নেট দুনিয়ার এই তুমুল শোরগোলের মাঝেই ভারতের বিখ্যাত পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক এই অভিনব আন্দোলনকে নিজের পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।
গত শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেকে এই দলের এক ‘সম্মানসূচক তেলাপোকা’ হিসেবে ঘোষণা করে ডিজিটাল পাড়ায় বেশ শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। ভারতের প্রধান বিচারপতির এক বিতর্কিত মন্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক জবাব দিতে গিয়ে মূলত এই তেলাপোকা দলের জন্ম হয়েছিল।
এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ইদানীং তাদের ওয়েবসাইট ডাউন আর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার জন্য সরাসরি সরকারের দিকেই আঙুল তুলছেন।
তরুণদের এমন চমৎকার ও সৃজনশীল প্রতিবাদের ভাষা দেখে সোনম ওয়াংচুক নিজে বড্ড মুগ্ধ ও আনন্দিত হয়েছেন। তিনি দেশের যুবকদের এই ডিজিটাল ক্ষোভকে দমন না করার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছেন। রাস্তায় নেমে মারপিট বা হিংসা ছড়ানোর চেয়ে অনলাইনের পাতায় এমন মজার ছলে প্রতিবাদ করা যে অনেক বেশি বুদ্ধিমানের কাজ, তা তিনি নিজ মুখে স্বীকার করেছেন।
পত্রিকার পাতায় কার্টুনিস্টরা যেমন বড় বড় মন্ত্রীদের ব্যঙ্গচিত্র এঁকে আসল সত্যিটা ফুটিয়ে তোলেন, এই আন্দোলনটিও ঠিক তেমনি একটি গণতান্ত্রিক হাতিয়ার। এই অভিনব প্রচারণাকে কোনো বড় হুমকি মনে না করে একে জনগণের এক ধরণের আসল মতামত বা ফিডব্যাক হিসেবে দেখার জন্য তিনি সরকারকে অনুরোধ করেছেন।
তেলাপোকা দলের অফিসিয়াল সদস্য হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে ওয়াংচুক বেশ হাসির ছলে নিজের অযোগ্যতার কথা প্রকাশ করেন। তিনি রসিকতা করে জানান এই দলের সদস্য হতে গেলে বেকার কিংবা অলস হওয়া বড্ড প্রয়োজন, যার কোনোটিই তিনি নন। তবে দলের আসল সদস্য না হতে পারলেও এর ভেতরের প্রতিবাদের বার্তার সাথে তিনি নিজের মনকে পুরোপুরি মেলাতে পারছেন। প্রশ্ন ফাঁসের মতো দেশের এক মস্ত বড় ও সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে এই তরুণরা যে আওয়াজ তুলছেন, তার মধ্যে তিনি কোনো ভুল দেখছেন না।
বিশ্বের যেকোনো সভ্য দেশে এমন লজ্জাজনক ঘটনায় মন্ত্রীরা যেখানে অনায়াসে পদত্যাগ করেন, সেখানে এই প্রতিবাদের কণ্ঠকে চেপে ধরা বড্ড অন্যায়।
অনলাইনের এই স্বাধীন জায়গাগুলোকে জোর করে বন্ধ করে দিলে তরুণদের ভেতরের জমে থাকা ক্ষোভ যেকোনো সময় আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে। নেপালের পুরানো উদাহরণ টেনে ওয়াংচুক বলেছেন সেখানে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ায় তরুণরা ক্ষোভে রাস্তায় নেমে এক কুৎসিত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছিল। ভারতের যুবকেরা দেশের মাটিতে পাথর ছুঁড়ে মারপিট না করে ডিজিটাল সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেদের দুঃখগুলো ফুটিয়ে তোলায় ভারত আজ সত্যি ‘বিশ্বগুরু’র সম্মান পাচ্ছে।
সরকার যদি ভালোবাসার চোখে এই বার্তাকে গ্রহণ না করে তরুণদের কোণঠাসা করে দেয়, তবে তারা পরবর্তী পদক্ষেপে রাস্তায় নেমে বড় আন্দোলন শুরু করতে পারে। যুব সমাজকে কোনোভাবেই হিংসার পথে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এবং সরকারকে তাদের ওপর জোর না খাটানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন।
সূত্রঃ টিএন









