বারুইপুরকাণ্ডে পশ্চিমবঙ্গের তিন থানা এলাকায় জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা

বারুইপুরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে মুসলিম নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা উত্তেজনার আবহে কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর থানা এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকাগুলিতে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই রাস্তায় নামানো হয়েছে বিপুল পুলিশবাহিনী। চলছে টহলদারি, নজরদারি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিশেষ ব্যবস্থা।
প্রশাসনের দাবি, রবিবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতেই এই পদক্ষেপ। সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ১২ বছরের মুসলিম নাবালিকাকে ধর্ষণের পর খুন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার থেকে মেয়েটি নিখোঁজ থাকলেও পুলিশের তরফে তৎপরতার অভাব ছিল। পরে এলাকার বাসিন্দারাই বিভিন্ন সূত্র ধরে খোঁজ শুরু করেন।
স্থানীয়দের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখাসহ নানা উপায়ে অনুসন্ধান চালানোর পর রবিবার একটি পুকুর থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়।
মৃতদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, মেয়েটিকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হলেও পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।
আরও অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় এক বিজেপি নেতার প্রভাবেই কিছু সন্দেহভাজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি সন্দেহভাজনরা প্রত্যেকেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। একই সঙ্গে এক সন্দেহভাজন যুবককে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু এবং পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ - এই তিনটি পৃথক ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রবিবার রাতভর অভিযানে সম্ভাব্য অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়। ইতিমধ্যে দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, নাবালিকার বাবাকে মঙ্গলবার ভবানীভবনে ডাকা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচির উপর কার্যত কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। যদিও প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নতুন করে অশান্তি ছড়ানো রোধ করাই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।





