রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা, কমানো হলো অভিষেকের ক্ষমতা
ভরাডুবির পর তৃণমূলে রদবদল

তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি এবং দলীয় ভাঙনের আবহে সংগঠনকে নতুন করে গুছিয়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার কালীঘাটে দলের জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরনো কমিটিগুলি ভেঙে নতুন কাঠামো গড়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
বৈঠকের পর দলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন সাংগঠনিক রূপরেখা ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, বৈঠকে ২৬ জন সদস্য সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং অন্য রাজ্যের ৫ থেকে ৬ জন নেতা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের চেয়ারপার্সন পদে বহাল থাকছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে থাকছেন। তবে দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন।
রাজ্য সংগঠনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয়েছে সভাপতি পদে। দীর্ঘদিন এই দায়িত্বে থাকা সুব্রত বক্সির পরিবর্তে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভানেত্রী করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। রাজ্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্বে থাকছেন কুণাল ঘোষ।
এছাড়া যুব সংগঠনের সভানেত্রী হয়েছেন সায়নী ঘোষ। মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মালা রায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভানেত্রী করা হয়েছে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন শাখা সংগঠনেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। আইএনটিটিইউসির সভাপতি করা হয়েছে মলয় ঘটককে। হকার সংগঠনের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মদন মিত্রকে। দলের লিগ্যাল সেলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
জেলা স্তরের সাংগঠনিক দায়িত্ব নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলা সভাপতিদের নিয়োগের ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে দলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তিনি বিভিন্ন জেলার সাংগঠনিক দায়িত্ব চূড়ান্ত করবেন।
বৈঠকের পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে সরব হন। তার অভিযোগ, নির্বাচনের পর বিভিন্ন এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে এবং দলের কর্মীদের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সিবিআই বেআইনিভাবে গ্রেফতার করছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইও জোরদার করার কথা বলেছেন তিনি।
পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে মনে করছে তৃণমূল। সেই বিষয়ে আগামী সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন জমা দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের ধাক্কার পর সংগঠনকে চাঙ্গা করা, পুরনো ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা এবং আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতেই এই বড় সাংগঠনিক রদবদলের পথে হাঁটল তৃণমূল নেতৃত্ব।




