‘হোল্ডিং সেন্টার’ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তৃণমূলের

সংগৃহীত ছবি
পশ্চিমবঙ্গে জয়লাভের পর থেকেই ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি কার্যকর করার কথা বারবার বলছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। আর এবার সেই নীতির অংশ হিসেবেই সম্প্রতি রাজ্যের সব জেলাকে তথাকথিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
অন্যদিকে নির্দেশ জারির মাত্র এক দিনের মধ্যেই মুর্শিদাবাদের রানিতলা এলাকা থেকে তিনজনকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে আটক করে লালগোলার একটি বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
পুলিশ জানায়, ওই তিনজনের কাছে ভারতে থাকার বৈধ নথি ছিল না।
আগে এ ধরনের ঘটনায় অভিযুক্তদের জেলে পাঠানো হলেও এবার নতুন নির্দেশিকা মেনে তাদের সরাসরি রাখা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টারে।
প্রশাসনের বক্তব্য, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে পরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে তাদের।
কিন্তু এই পদক্ষেপ ঘিরেই বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের। দলের নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, সরকার যাকে ‘হোল্ডিং সেন্টার’ বলছে, বাস্তবে তা ডিটেনশন সেন্টারেরই অন্য নাম। তার দাবি, আসামের মতো বাংলাতেও বিভাজনের রাজনীতি চালু করতে চাইছে বিজেপি।
কুণালের প্রশ্ন, কোনো ব্যক্তি সত্যিই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এসে থাকলে, তার দায় কি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নয়? তাহলে এত কড়া নিরাপত্তার পরেও অনুপ্রবেশ হচ্ছে কীভাবে?
তৃণমূলের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া ছাড়াই কাউকে সন্দেহের ভিত্তিতে আটকে রাখার প্রবণতা বিপজ্জনক। তার অভিযোগ, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে সাধারণ মানুষকেও ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে হেনস্থা করা হতে পারে।
একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল নেতা বাবুল সুপ্রিয়ের গলাতেও। তিনি বললেন, ‘এখন তো কেন্দ্র ও রাজ্য দুই জায়গাতেই ডাবল ইঞ্জিন সরকার। তাহলে সীমান্তে এত ফাঁকফোকর রইল কীভাবে?’ তার দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ আটকাতে না পেরে এখন করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর রাজনীতি।
বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে এনে কড়া প্রশাসনিক বার্তা দিতে চাইছে। কিন্তু এই পদক্ষেপে মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে আদালতের পূর্ণ নির্দেশ বা দীর্ঘ আইনি যাচাই ছাড়াই মানুষকে বিশেষ কেন্দ্রে আটকে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্যে।






