প্রধানমন্ত্রী পদে লড়াইয়ে নামার ঘোষণা বার্নহ্যামের

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও কিয়ার স্টারমার- রয়টার্স
অবশেষে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আলোচনা চলছে কে হবেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে বা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনিই কার্যত প্রধানমন্ত্রী পদের সবচেয়ে বড় দাবিদার।
ধারণা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই গত ১০ বছরের মধ্যে ব্রিটেনের সপ্তম নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে পারেন বার্নহ্যাম।
আবেগঘন বক্তৃতায় স্টারমার বলেছেন, তিনি তার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির কথা শুনেছেন। উপলব্ধি করেছেন, ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি আর উপযুক্ত ব্যক্তি নন।
লন্ডনের সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এই বার্তা দিয়েছেন স্টারমার। তার ঘোষণাটি দলের ভেতরে নতুন করে নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াই জমিয়ে দিতে পারে। কিংবা দলের অনেকের পছন্দের বিকল্প বার্নহ্যাম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।
৫৬ বছর বয়সী রাজনীতিবিদ বার্নহ্যাম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় জানান, যেকোনো নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াইয়ে তিনি নিজের প্রার্থীতা পেশ করবেন। ঘোষণার পর পরই তিনি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের সমর্থন পেয়েছেন। অথচ এই লড়াইয়ে বার্নহ্যামের অন্যতম সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়েস।
বার্নহ্যাম লিখেছেন, ‘কিয়ার আমাদের দেশের জন্য বড় অবদান রেখেছেন। এই রকম একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার নেতৃত্ব ও আত্মোৎসর্গের জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তার এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি রূপান্তর বা ক্ষমতা হস্তান্তরের সূচনা করেছে। এই প্রক্রিয়াটি যেন সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল উপায়ে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে (নেতৃত্বের লড়াইয়ে) উপস্থাপন করব।’
বার্নহ্যাম লিখেছেন, ‘দেশ এখন স্থিতিশীলতা এবং সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলোর ওপর মনোযোগ প্রত্যাশা করে। আর দেশ সেটাই পাবে। আমরা যত সামনের দিকে এগিয়ে যাব, আমাদের মূল অগ্রাধিকার হতে হবে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করা। যেন দেশকে আবার সেই জায়গায় ফিরিয়ে নিতে পারি যেখানে আমরা নিজেদের দেখতে চাই।’
১০ বছর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পক্ষে ভোট দেওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী বদল। পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় রাজীতিবিদদের ওপর ভোটারদের যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, লেবার সরকারও মূলত তারই সর্বশেষ শিকারে পরিণত হলো।
স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি লেবার পার্টির সাংগঠনিক কমিটিকে তার স্থলাভিষিক্ত খোঁজার জন্য নেতৃত্ব নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে বলবেন। আগামী ৯ জুলাই থেকে মনোনয়নপত্র নেওয়া শুরু হবে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে তা বন্ধ হবে। যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়, তবে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে একজন নতুন নেতা দায়িত্ব পাবেন। আর যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অভিষেক ঘটে, তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই নতুন নেতা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেন।
দুই বছরের শাসননামলে তার সরকারের অর্জনগুলো তুলে ধরার পর এই নেতা দৃশ্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তার পাশে থাকার জন্য পরিবারকে ধন্যবাদ জানানোর সময় তার কণ্ঠ ভার হয়ে আসে।
‘দেশের এই সর্বোচ্চ দায়িত্বটি ছেড়ে দেওয়ার পর আমি আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের পেছনে আরও বেশি সময় দেব। তা হলো আমার চমৎকার স্ত্রী ভিক। যে ভালো-মন্দ সব সময়ে আমার পাশে পাথরের মতো অটল ঢাল হয়ে ছিল। তার জন্য একজন সেরা স্বামী হওয়া এবং আমার সন্তানদের জন্য সেরা বাবা হওয়ার দিকেই আমি বেশি গুরুত্ব দেব। তারা আমার গর্ব ও আনন্দের উৎস,’ বলছিলেন স্টারমার।





