সমঝোতার খোঁজে পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধ অবসানে সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। একটি সমঝোতার পথ খুঁজে বের করতে এখনো অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। এ লক্ষ্যে শুক্রবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ মোহসিন নাকভি। বৈঠকে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি কাঠামো তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু ইস্যুতে এখনো বিরাজ করছে তীব্র মতবিরোধ। রয়টার্স।
আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বার্তা ইরানিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দুদিন পর এ বৈঠক হলো বলে ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ইসনার বরাতে জানা গেছে। যুদ্ধ শেষ করতে এবং মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলতে একটি রূপরেখা দাঁড় করানোর চেষ্টায় দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগে সহায়তা করছেন নাকভি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ইউরেনিয়াম ইস্যুতে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় সম্ভব নয় বড় অগ্রগতি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা উদ্যোগকে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও চূড়ান্ত সমাধান কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কিছু ভালো লক্ষণ’ দেখা যাচ্ছে আলোচনায়। কিন্তু তেহরান যদি হরমুজ প্রণালিতে টোল কার্যকর করে, তাহলে কোনো সমাধানই হবে না। আমি অতিরিক্ত আশাবাদী হতে চাই না, দেখা যাক সামনের কয়েক দিনে কী হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় তেহরান। এখন পর্যন্ত তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান প্রণালি দিয়ে ঢুকতে বা বের হতে পারেনি।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ব্যবধান কমে এসেছে’ বলে বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বতন এক ইরানি কর্মকর্তাও রয়টার্সকে বলেছেন। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতভেদ এখনো প্রকট।
পশ্চিম এশিয়ার এ যুদ্ধ এরই মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে জোর ধাক্কা দিয়েছে। তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মূল্যস্ফীতি কোথায় গিয়ে পৌঁছায়— তা নিয়েও শঙ্কা কাজ করছে অনেকের মধ্যে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই যেত গন্তব্যে। এখন সেই সংকীর্ণ জলপথটিতে নৌযান চলাচলে তেহরানের নিষেধাজ্ঞা শুধু জ্বালানিই নয়— সার, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহে ঘটাচ্ছে ভয়াবহ বিঘ্ন।
শান্তি আলোচনায় আদৌ কোনো যুগান্তকারী সাফল্য (ব্রেক থ্রু) আসবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সন্দেহে চড়ছে তেলের দামও। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের ভাষ্য, যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহ যাচ্ছে। কিন্তু আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমস্যার সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছি বলেও মনে হচ্ছে না আমার।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ পাবেই। আমরা এটা চাই না, দরকারও নেই। হয়তো পাওয়ার পর সেগুলো ধ্বংস করে ফেলব আমরা। কিন্তু কোনোমতেই সেসব আমরা তাদের কাছে রাখব না।’
হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলে তেহরান যে ফি বসাতে যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার তারও কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।







