মান নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এআই, পুরনো পথেই হাঁটল ফোর্ড
আগামীর সময় প্রতিবেদক

ছবি: রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিণতিতে ৩০০ এর বেশি অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও মাননিয়ন্ত্রণ পরিদর্শককে পুনরায় কাজে ফিরিয়ে এনেছে মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড। উৎপাদন লাইনে গাড়ির সূক্ষ্ম ত্রুটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উৎপাদন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক ও দক্ষ করতে ফোর্ড তাদের বিভিন্ন কারখানায় ব্যাপকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায়। এর অংশ হিসেবে কারখানাগুলোয় বসানো হয় প্রায় ৯০০টি এআইচালিত ক্যামেরা, যেগুলোর কাজ ছিল উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে ত্রুটি শনাক্ত করা, সমস্যার উৎস চিহ্নিত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন কমানো।
কোম্পানিটির মতে, বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল অভিজ্ঞ অনেক প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়ার আগেই তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান মেশিন লার্নিংভিত্তিক সিস্টেমে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা যায়নি। ফলে এআই পর্যাপ্ত মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ পায়নি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সূক্ষ্ম ত্রুটি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভেহিক্যাল হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস পুন বলেছেন, এআই নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী প্রযুক্তি, তবে এটি কখনোই নিজে নিজে দক্ষ হয়ে ওঠে না। এর কার্যকারিতা নির্ভর করে কী ধরনের তথ্য, অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব উদাহরণ দিয়ে এটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে তার ওপর। তাই মানব অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ই ভবিষ্যতের উৎপাদন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এই উদ্যোগটি ফোর্ডের বৃহত্তর ‘ট্যালেন্ট রিফ্রেশ’ কর্মসূচির অংশ। এর আওতায় প্রকৌশল, উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বিভাগে নেতৃত্ব পর্যায়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোম্পানির লক্ষ্য, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবসম্পদের অভিজ্ঞতাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে উৎপাদনের গুণগত মান আরও উন্নত করা।
ফোর্ডের এই কৌশল এরই মধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে। পুনর্গঠন, মাননিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং অভিজ্ঞ জনবলকে পুনরায় যুক্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের বহুল স্বীকৃত জেডি পাওয়ার ইনিশিয়াল কোয়ালিটি স্টাডিতে মূলধারার গাড়ি নির্মাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১০ সালের পর এই প্রথম এমন সাফল্য পেল ফোর্ড।
ফোর্ডের এই অভিজ্ঞতা প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, দক্ষ ও আধুনিক করতে পারে, তবে মানুষের বহু বছরের অভিজ্ঞতা, বাস্তব বিচারক্ষমতা এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের বিকল্প এখনো হয়ে ওঠেনি। বরং মানব দক্ষতা ও এআইয়ের সমন্বিত ব্যবহারই শিল্প উৎপাদনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।






