দুই বছর পরও চেতনা, অর্জন অপূর্ণ
- জুলাই আন্দোলন শুরুর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ

সংগৃহীত ছবি
জুলাই আন্দোলন শুরুর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি আজ। রক্তঝরা মাসটিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে বৈষম্যবিরোধীরা। ২০২৪ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অল্প সময়েই ছড়িয়ে পড়ে দেশ জুড়ে, ধীরে ধীরে রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলন, সংঘাত, প্রাণহানি ও রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে সূচিত হয় নতুন অধ্যায়। দুই বছর পরও সেই স্মৃতি অম্লান। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, জবাবদিহি, সুশাসন, বৈষম্যহীন সমাজ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ও অর্জনের পাশাপাশি অপূর্ণ প্রত্যাশার হিসাবও সামনে আসছে এই বার্ষিকীতে।
২০২৪ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আন্দোলন। দ্রুত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এটি শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ না থেকে বিস্তৃত হয় রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি, নাগরিক অধিকার, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয় সর্বজনীন গণআন্দোলনে।
শুরুতে চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঘোষণা করা হয় তিন দিনের কর্মসূচি। পরে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সহিংসতার সঙ্গে অবনতি ঘটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির। এতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটে। হাজারো মানুষ আহত ও পঙ্গু হন। ঘটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও।
৩৬ দিনের এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি পায় ওই বছরের ৫ আগস্ট। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে বড় পরিবর্তন আসে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায়। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে নতুন করে শুরু হয় জাতীয় আলোচনা।
দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আন্দোলনের মূল চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার। একই সঙ্গে প্রশ্নও রয়ে গেছে জুলাইয়ের আত্মত্যাগের যে স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, আর কতটাইবা অপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা গেলেও এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় জনগণের প্রত্যাশার অনেক বিষয়। বিশেষ করে প্রয়োজন দুর্নীতি দমন, রাজনৈতিক সহনশীলতা, কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ।
বিভিন্ন কর্মসূচি : দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে আলোচনা সভা, স্মরণসভা, দোয়া মাহফিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পদযাত্রা ও শহীদদের স্মরণে নানা কর্মসূচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত তুলে ধরে চলছে ব্যাপক আলোচনা।
এ উপলক্ষে পৃথকভাবে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশ জুড়ে পালন করা হবে শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময়, কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, পদযাত্রা, গণমিছিল, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মোমবাতি প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। পাশাপাশি ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশে বড় পরিসরের সমাবেশ ও মিছিলেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।




