নিউইয়র্কে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হতে পারে নতুন মামলা

সস্ত্রীক নিকোলাস মাদুরো— রয়টার্স
নিউইয়র্কের প্রসিকিউটররা সাবেক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনতে পারেন। ভেনেজুয়েলা সরকারের হেফাজতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আটক থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওপর কথিত নির্যাতনের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হবে বলে তদন্তের সঙ্গে পরিচিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবারই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
তদন্তের বিষয়ে অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নতুন অভিযোগগুলো মাদুরো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দেশটির কারাগারে এক ডজনেরও বেশি মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আটক রাখার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মাদুরোর শাসনামলে দেশটিতে দমনমূলক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল বলে মার্কিন সরকার দাবি করেছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, মার্কিন নাগরিকদের ওপর নির্যাতনে কথিত ভূমিকার জন্য আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার বিষয়টি তদন্তকারীরা আলোচনা করেছেন।
মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
জানুয়ারিতে কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানের সময় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়। মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। বর্তমানে নিউইয়র্কে তাঁদের জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।
ফ্লোরেসকে বৃহস্পতিবার একটি শুনানিতে হাজির করারর কথা রয়েছে। সেখানে তার আইনজীবী বিচারের আগে তাকে গৃহবন্দী রাখার আবেদন করবেন।
মাদুরোর আইনজীবী তার গ্রেপ্তারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। তার দাবি, কথিত অপরাধ সংঘটনের সময় মাদুরো প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন। তাই তার দায়মুক্তি থাকা উচিত।
তবে প্রসিকিউটরপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলা সরকার মাদুরোর হয়ে দায়মুক্তির দাবি করছে না।
নির্যাতনের অভিযোগ
মাদুরো সরকারের আমলে এক ডজনেরও বেশি মার্কিন নাগরিককে আটক করা হয়েছিল। তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মার্কিন সরকার ও বিভিন্ন অধিকারকর্মী অভিযোগ করেছিলেন।
আটক থাকা অবস্থায় তাদের ওপর চালানো নির্যাতনের কথা কয়েকজন মার্কিন নাগরিক প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ম্যাথিউ হিথ ও ওসমান খান এক মামলায় অভিযোগ করেন, তাদের ওয়াটারবোর্ডিং, বৈদ্যুতিক শক, যৌন নির্যাতনের হুমকি, মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে এমন ওষুধ প্রয়োগ এবং দীর্ঘ সময় একাকী বন্দিত্বের শিকার হতে হয়েছিল। সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা হিথ আটক থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।
‘সিআইটিজিও ৬’ নামের ছয় মার্কিন তেল কর্মকর্তা ২০১৭ সালে প্রলোভন দেখিয়ে ভেনেজুয়েলায় নেওয়ার পর প্রায় পাঁচ বছর আটক ছিলেন। তারাও ভেনেজুয়েলার হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাদের নিয়োগকর্তা সিটিগোর বিরুদ্ধে করা মামলায় তোমেউ ভাদেল, আলিরিও হোসে সামব্রানো এবং হোসে লুইস সামব্রানো অভিযোগ করেন, কারাগারে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল।
তাদের সবাইকে কুখ্যাত জেনারেল ডিরেক্টরেট অব মিলিটারি কাউন্টারইন্টেলিজেন্স (ডিজিসিআইএম)-এ আটক রাখা হয়েছিল। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিরোধী ও তাদের স্বজনদের ‘ইচ্ছামতো আটক, দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের জন্য’ সংস্থাটি ‘দায়ী’ ছিল।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য ও স্বীকারোক্তি আদায়, আটক ব্যক্তিদের ভয় দেখানো এবং শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিজিসিআইএম নিয়মিতভাবে নির্যাতনের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করত। এর মধ্যে ছিল বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে শ্বাসরোধ করা, ওয়াটারবোর্ডিং, মারধর, যৌন সহিংসতা, পানি ও খাবার থেকে বঞ্চিত করা, দীর্ঘ সময় অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে রাখা এবং চরম তাপমাত্রার মধ্যে রাখা।
সূত্র: সিএনএন



