দশকের অন্যতম ভয়াবহ খরায় পুড়ছে ব্রিটেন
- যুক্তরাজ্যের সাফোকে ভয়াবহ দাবানল, নজরদারিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

সংগৃহীত ছবি
একের পর এক তাপপ্রবাহ, টানা বৃষ্টিহীন দিন আর দাবানলের দাপটে কার্যত পুড়ছে যুক্তরাজ্য। কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মুখে দাঁড়িয়ে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ইংল্যান্ডের অর্ধেকেরও বেশি এলাকাকে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে খরাকবলিত ঘোষণা করেছে পরিবেশ সংস্থা। লন্ডন-সহ দক্ষিণ ও পূর্ব ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নদী, জলাধার ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানির তীব্র সংকট। পরিস্থিতি সামাল দিতে লাখ লাখ মানুষের ওপর পানির ব্যবহারেও কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
চলতি বছরের মে মাস থেকেই যুক্তরাজ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। জুন ও জুলাইয়ে একাধিক তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের বেশির ভাগ সময়ই দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে কার্যত বৃষ্টি হয়নি। কোথাও কোথাও টানা ৪০ দিনেরও বেশি সময় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। জলাধারের পানি কমেছে, নদীর প্রবাহ নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে।
খরার পাশাপাশি ভয়াবহ আকার নিয়েছে দাবানল। বিশেষ করে সাফোক, এসেক্স, সারে ও লন্ডনের আশপাশে গত কয়েক দিনে একের পর এক ঘাসের মাঠ, বনভূমি ও উন্মুক্ত এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় সাফোকের ডানউইচ হিথ এলাকায় ভয়াবহ দাবানলের সূত্রপাত হয়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুন অল্প সময়ের মধ্যেই সাইজওয়েল বি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কাছাকাছি ক্লিফ হাউস হলিডে পার্ক এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকা থেকে শতাধিক বাসিন্দা ও পর্যটককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ৯০ জন দমকলকর্মী ও ১৮টি অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট রাতভর আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। যদিও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দাবানলটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি, তবু পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জনগণকে অপ্রয়োজনে খোলা জায়গায় আগুন না জ্বালানো, বারবিকিউ ব্যবহারে সতর্ক থাকা এবং শুকনো ঘাস বা ঝোপঝাড়ে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ না ফেলার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চলমান গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ছোট একটি আগুনও মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ দাবানলে পরিণত হতে পারে।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ অস্থায়ী পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধের আওতায় এসেছে। বাগানে পাইপ দিয়ে পানি দেওয়া, ব্যক্তিগত গাড়ি ধোয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাজে পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে একাধিক পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। পরিবেশ সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও কঠোর বিধিনিষেধ জারি হতে পারে।
এই দাবানল নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয় কাছেই অবস্থিত সাইজওয়েল বি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে। আগুনটি কেন্দ্রটির কয়েক মাইল উত্তরে জ্বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইডিএফ এবং স্থানীয় দমকল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে আগুন থেকে কেন্দ্রটির জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নেই। মাঝখানে জলাশয় ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক থাকায় আগুন সেদিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। তবুও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।




