ব্রিটেনের রাজা চার্লসের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র মামলা খারিজ অস্ট্রেলিয়ায়
- ভিক্টোরিয়ার আপিল আদালতে তৃতীয় আইনি ধাক্কা আদিবাসী নেতা রব্বি থর্পের
- এবার নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা, যদিও সেখানে ব্যক্তিগত মামলা সরাসরি করা যায় না

রাজা তৃতীয় চার্লস
রাজমুকুটের বিরুদ্ধে অভিযোগটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, এক মহাদেশের ইতিহাসের বিরুদ্ধে তোলা প্রশ্ন। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীদের ওপর শতাব্দীর নিপীড়নকে ‘চলমান গণহত্যা’ বলে দাবি করে রাজা তৃতীয় চার্লসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন আদিবাসী প্রবীণ রব্বি থর্প। দেশের আদালতে সেই চেষ্টা আবারও ব্যর্থ হয়েছে। তবে থর্প বলছেন, এখানেই শেষ নয়, তার পরের গন্তব্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কোর্ট অব আপিলের তিন বিচারক ৬৮ বছর বয়সী ক্রাউটাটুঙ্গালুং জনগোষ্ঠীর প্রবীণ রব্বি থর্পের আবেদন খারিজ করেছেন। ২০২৩ সালে মেলবোর্ন ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে ব্যক্তিগতভাবে মামলা শুরু করার চেষ্টা থেকে এ পর্যন্ত এটি তাঁর তৃতীয় আইনি পরাজয়। আদিবাসী অস্ট্রেলীয় সমাজে সম্মান জানাতে প্রবীণদের ‘আঙ্কেল’ বা ‘আন্টি’ বলা হয়, তাই তিনি ‘আঙ্কেল রব্বি থর্প’ নামেও পরিচিত।
থর্পের অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাজা চার্লস, দেশটির সরকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এমন কাঠামো বজায় রেখেছে, যা আদিবাসীদের স্বাস্থ্য, আয়, শিক্ষা ও কারাবন্দিত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদ্ধতিগতভাবে পিছিয়ে রেখেছে। তাঁর মামলায় ২০২২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ‘চলমান গণহত্যা’র অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তবে নিম্ন আদালত বলেছিল, অভিযোগপত্রে ভিক্টোরিয়ার আইনে স্বীকৃত কোনও অপরাধের যথাযথ ভিত্তি দেখানো হআকোর্ট সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। সোমবার আপিল আদালতও জানায়, আবেদনটির সফল হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নেই।
রায়ের পর থর্প বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়া পুরোপুরি অস্বীকারের মধ্যে আছে।” তাঁর কথায়, “সন্ত্রাসের কাজ আর গণহত্যার নীতি না থাকলে অস্ট্রেলিয়া আজকের মতো হতো না। এটাই আমার বাস্তবতা, আরও অনেক মানুষেরও।”
এখন তাঁর শেষ ঘরোয়া আইনি পথ অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে আপিলের অনুমতি চাওয়া। এ ধরনের আবেদনের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ গ্রহণ করে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। এরপর তিনি নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ দিতে চান।
তবে আইনি পথটি সহজ নয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে কোনও ব্যক্তি সরাসরি ব্যক্তিগত ফৌজদারি মামলা শুরু করতে পারেন না। তিনি আদালতের প্রসিকিউটরের দপ্তরে তথ্য বা প্রমাণ জমা দিতে পারেন। আদালত গণহত্যার অভিযোগ বিচার করতে পারে এবং রাষ্ট্রপ্রধানের দায়মুক্তিকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বীকার করে না। তবে মামলা শুরু হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রসিকিউটর বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ব্রিটিশ সম্রাট যুক্তরাজ্যের আইনে বিস্তৃত সার্বভৌম দায়মুক্তি ভোগ করেন, যা অস্ট্রেলিয়ার আইনি ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে রাজা চার্লসকে বাস্তবে বিচারের মুখে আনার সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত জটিল। তবু থর্পের লড়াই একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে, উপনিবেশিক ইতিহাসের দায় কত দূর পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্র ও রাজমুকুটের ওপর বহন করে।




