পোল্যান্ডে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬
- তিন মিনিটের তাণ্ডবে রক্তাক্ত ক্রাকোভ
- হামলাকারীর বাড়িতে আরও তিন মরদেহ, উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত হওয়ার সন্দেহ

সেদিনও পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট ছিল পোল্যান্ডের ঐতিহাসিক ক্রাকোভ শহরের প্রধান চত্বর। কেউ ছবি তুলছিলেন। কেউ বসেছিলেন খাবারের দোকানে। মুহূর্তে সেই পরিচিত দৃশ্য বদলে গেল। গাড়ির জানালা থেকে ছুটতে লাগল গুলি। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছুটলেন দোকান আর গির্জায়। কয়েক মিনিটের হামলায় প্রাণ গেল ছয়জনের। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীর বাড়িতে মিলল আরও তিনটি মরদেহ।
রবিবার (০৮ নভেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় বেলা তিনটার কিছু আগে পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ক্রাকোভের প্রধান বাজারচত্বরে গাড়ি নিয়ে ঢোকেন এক বন্দুকধারী। পথচারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকেন তিনি। গুলিতে দোকানের কাচ ভাঙে। চলন্ত একটি ট্রামেও গুলি লাগে। তবে যাত্রীরা আহত হননি।
নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন নারী ও দুজন পুরুষ। তাদের মধ্যে তিনজন পোল্যান্ডের, একজন ব্রিটেনের নাগরিক। অপর দুজনের পরিচয় তখনও নিশ্চিত হয়নি। আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য এবং ব্রিটেন, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, পর্তুগাল ও রাশিয়ার পাঁচ নাগরিক রয়েছেন।
ইংল্যান্ডের ইপসউইচ থেকে আসা পর্যটক জনাথন বালশ বলেছেন, ‘আমরা গির্জার পাশ দিয়ে ছুটে ভেতরের দরজায় আশ্রয় নিয়েছিলাম।’ তাঁর কথায়, অন্তত বিশবার গুলির শব্দ শোনা যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হন হামলাকারীও। অস্ত্রোপচারের পর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যে পুলিশ হামলাকারীকে থামায়। তাঁর কথায়, ‘পুলিশ আরও বড় হত্যাযজ্ঞ ঠেকিয়েছে।’
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সন্দেহভাজন ২৫ বছর বয়সী পোলিশ নাগরিক। তার পরনে ছিল সামরিক ধাঁচের পোশাক ও বুলেটপ্রতিরোধী জ্যাকেট। গাড়ি থেকে আরও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ‘সবকিছু থেকেই মনে হচ্ছে, তিনি উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শে আকৃষ্ট ছিলেন।’ তবে হামলার উদ্দেশ্য এখনো তদন্তাধীন। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য নন।
ঘটনার পর ক্রাকোভ থেকে দূরের ওস্ত্রোভিয়েতস শভিয়েন্তোকশিস্কি শহরে সন্দেহভাজনের বাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ। সেখানে দুই নারী ও এক পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের ধারণা, তাঁরা হামলাকারীর ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য। তাঁদের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হয়নি।
টাস্ক ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘পোল্যান্ডে আগে এমন ভয়াবহ সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেনি।’ ক্রাকোভে বুধবার (১১ নভেম্বর) পর্যন্ত শোক ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয়ভাবে রবিবার ও সোমবার শোক পালনের সিদ্ধান্তও এসেছে।
পোল্যান্ডে এ ধরনের নির্বিচার বন্দুক হামলা বিরল। তবে অক্টোবরে দেশটির কয়েকটি বিদ্যালয়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।



