বাড়ছে আয়ারল্যান্ডের গণপরিবহনের ভাড়া, চাপে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে

সংগৃহীত ছবি
ডাবলিনসহ আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ও গ্রামীণ এলাকায় প্রতিদিনের যাতায়াতের খরচ আরও বাড়তে যাচ্ছে। আগামী জানুয়ারি থেকে দেশটির রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত অধিকাংশ গণপরিবহনের ভাড়া গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ (এনটিএ)। বাস, ট্রেন, লুয়াস (মেট্রো রেল) কিংবা স্থানীয় পরিবহন কর্মস্থলে যাওয়া, সন্তানকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া, হাসপাতালে যাওয়া, বাজার করা কিংবা পরিবারের সঙ্গে দেখা করার মতো নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় যাতায়াতে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় যখন এরই মধ্যে অনেক পরিবারকে চাপে রেখেছে, তখন পরিবহন খাতে নতুন এই ব্যয় বৃদ্ধি মানুষের মাসিক বাজেটকে আরও সংকুচিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনটিএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডাবলিন বাস, বাস এইরেয়ান, আইরিশ রেল, লুয়াস (মেট্রো রেল), গো-অ্যাহেড আয়ারল্যান্ড এবং টিএফআই লোকাল লিংকের মতো রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত সেবায় নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। নগদ ভাড়ার পাশাপাশি লিপ কার্ড (ট্রান্সপোর্টের ভাড়া পরিশোধে ব্যবহৃত বিশেষ আইরিশ কার্ড), দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পরিবহন পাসের দামও বাড়বে। এনটিএ জানিয়েছে, প্রায় আট বছরের মধ্যে এটি প্রথম সাধারণ ভাড়া বৃদ্ধি। সংস্থাটির ঘোষণা অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পরিবর্তনটি কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা শেষে বাস্তবায়নের বিস্তারিত সময়সূচি চূড়ান্ত হবে।
একজন নিয়মিত যাত্রীর কাছে ৩০ বা ৭০ সেন্টের অতিরিক্ত ভাড়া হয়তো খুব বড় অঙ্ক মনে নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের যাতায়াতের হিসাব করলে চিত্রটি ভিন্ন। ডাবলিনে বর্তমানে ৯০ মিনিটের লিপ ভাড়া ২ ইউরো, নতুন ভাড়ায় তা হবে ২.৩০ ইউরো। অর্থাৎ প্রতিবার যাত্রায় ৩০ সেন্ট বাড়তি। স্বল্প দূরত্বের প্রাপ্তবয়স্ক লিপ ভাড়া ১.৫০ ইউরো থেকে বেড়ে ২ ইউরো হবে, বৃদ্ধি প্রায় ৩৩ শতাংশ। নগদে স্বল্প দূরত্বের প্রাপ্তবয়স্ক বাসভাড়া ২ ইউরো থেকে বেড়ে ২.৭০ ইউরো হবে।
দৈনিক ও সাপ্তাহিক ক্যাপের ক্ষেত্রেও বাড়তি খরচ যুক্ত হবে। ডাবলিনে বহু-অপারেটর লিপ কার্ড ব্যবহারে প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ক্যাপ ৬ ইউরো থেকে বেড়ে ৬.৯০ ইউরো এবং সাপ্তাহিক ক্যাপ ২৪ ইউরো থেকে ২৭.৬০ ইউরো হবে। একজন নিয়মিত কর্মজীবী মানুষ সপ্তাহে পাঁচ বা ছয় দিন গণপরিবহন ব্যবহার করলে এই পার্থক্য সামান্য মনে হলেও বছরে তা উল্লেখযোগ্য অঙ্কে দাঁড়াতে পারে। একই পরিবারের দুজন কর্মজীবী সদস্য গণপরিবহন ব্যবহার করলে খরচ দ্বিগুণ হবে। সন্তানদের স্কুল বা অন্যান্য কার্যক্রমের যাতায়াত যোগ হলে পারিবারিক বাজেটের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
এখানেই ভাড়া বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রভাবটি দেখা যেতে পারে। আয়ারল্যান্ডে অনেক পরিবারের মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, খাবার, চাইল্ডকেয়ার, ইনসুরেন্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ে চলে যায়। এসব খরচের পাশাপাশি যাতায়াতের ব্যয়ও বাধ্যতামূলক। ফলে পরিবহন ভাড়া বাড়ার অর্থ হচ্ছে পরিবারের হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ অন্য খাত থেকে সরিয়ে আনতে হবে। কেউ হয়তো বাইরে খাওয়া কমাবেন, কেউ বিনোদন বা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা কমাবেন, আবার কেউ সঞ্চয়ের পরিমাণ কমিয়ে দেবেন। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য এই চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রবাসী পরিবারগুলোর বাস্তবতায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবারে একজনের কর্মস্থল একদিকে, অন্যজনের কর্মস্থল অন্যদিকে; সন্তানদের স্কুল বা চাইল্ডকেয়ার আবার ভিন্ন এলাকায়। ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে নিয়মিত বাস, ট্রেন কিংবা লুয়াস ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে যারা গাড়ি কেনার বা চালানোর সামর্থ্য রাখেন না, তাদের জন্য গণপরিবহন কোনো বিলাসিতা নয়, জীবনের অপরিহার্য অংশ। ভাড়া বাড়লে তাই তাদের হাতে থাকা আয় সরাসরি কমে যাবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে এনটিএ কিছু ছাড় বহাল রেখেছে এবং কয়েকটি শ্রেণিতে ভাড়া কমানোর ব্যবস্থাও করেছে। বিনামূল্যে ভ্রমণের সুবিধাও নির্দিষ্ট বয়সী শিশু ও ফ্রি ট্রাভেল স্কিমের আওতাভুক্ত মানুষের জন্য অব্যাহত থাকবে। এনটিএর হিসাবে প্রায় ২৭ শতাংশ জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে এ সুবিধা পাবে। এর মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ৮ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ রয়েছে। তবে এসব সুবিধা থাকলেও পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের বাড়তি যাতায়াত ব্যয় থেকে পরিবারগুলো পুরোপুরি মুক্ত থাকবে না।
শুধু কর্মস্থলে যাতায়াত নয়, চিকিৎসা ও সামাজিক জীবনেও এর প্রভাব পড়তে পারে। একজন বয়স্ক বাবা-মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, সন্তানের ডাক্তার দেখানো, সপ্তাহান্তে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়া, স্কুলের পর সন্তানকে স্পোর্টস বা মিউজিক ক্লাসে নেওয়া এসব যাতায়াতের প্রতিটিতেই পরিবহন ব্যয় জড়িত। আয় ও ব্যয়ের হিসাব যখন টানটান থাকে, তখন মানুষ প্রয়োজনীয় নয় এমন ভ্রমণও কমিয়ে দিতে পারেন। এর ফলে পরিবার ও সামাজিক জীবনের স্বাভাবিক চলাচলেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামীণ আয়ারল্যান্ডে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। শহরের তুলনায় সেখানে গণপরিবহনের বিকল্প সীমিত। অনেক এলাকায় নির্দিষ্ট রুটে দিনে কয়েকটি বাসই চলাচল করে। ব্যক্তিগত গাড়ি না থাকলে কর্মস্থল, হাসপাতাল, বাজার কিংবা সরকারি সেবা কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য স্থানীয় বাসই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। টিএফআই লোকাল লিংকের নিয়মিত রুরাল সিঙ্গেল ফেয়ারও গড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ নিম্নআয়ের মানুষ ও গাড়িবিহীন পরিবারের ওপর ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
শহরের বাইরের কর্মজীবীদের জন্য আন্তঃনগর যাতায়াতের খরচও বাড়বে। বাস এইরেয়ানের বিভিন্ন ইন্টারসিটি ইকোনোমি ফেয়ারে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি রয়েছে, আর এক্সপ্রেস ফেয়ারে গড়ে ১০ শতাংশ বাড়বে। ওপেন রিটার্ন টিকিটও বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থাৎ কর্ক, গালওয়ে, লিমেরিক, ওয়াটারফোর্ড কিংবা অন্য শহর থেকে ডাবলিনে নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষের জন্য বাড়তি খরচ শুধু স্থানীয় বাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না, দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রাতেও তার প্রভাব পড়বে।
ভাড়া বৃদ্ধির সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। এনটিএর তথ্য অনুযায়ী ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ২০.৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন বিনাভাড়ায় ভ্রমন সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এখন গড়ে ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই স্বস্তির একটি অংশ কমিয়ে দেবে। এনটিএ বলছে, নতুন ভাড়া কার্যকর হওয়ার পরও সামগ্রিকভাবে ভাড়ার মাত্রা আট বছর আগের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কম থাকবে। কিন্তু একজন পরিবারের মাসিক বাজেটের দিকে তাকালে বর্তমান খরচের সঙ্গে তুলনা করেই সিদ্ধান্তটি মূল্যায়ন করতে হবে।
ভাড়া বৃদ্ধির আরেকটি সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বাড়া। যারা গণপরিবহন ও গাড়ির খরচের মধ্যে তুলনা করেন, তাদের কেউ কেউ বাড়তি ভাড়ার কারণে গাড়িকে বেশি ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে পরিবারের কাছে আগে থেকেই গাড়ি থাকলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হতে পারে। এতে জ্বালানি ও পার্কিংয়ের খরচ বাড়লেও সময় ও সুবিধার কারণে গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে। দ্য জারনাল ডট আইইকে পরিবহন বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান কফিল্ড বলেছেন, মানুষের গাড়ি থেকে গণপরিবহনে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভাড়া কমানো একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত হাতিয়ার ছিল।
এর ফলে সরকারের পরিবেশ ও যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। আয়ারল্যান্ডের বড় শহরগুলোতে যানজট ইতোমধ্যে মানুষের কর্মঘণ্টা ও যাতায়াতের সময়কে প্রভাবিত করছে। গণপরিবহনের ভাড়া বাড়িয়ে যদি কিছু মানুষ আবার ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে ফিরে যান, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রচেষ্টায় তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অবশ্য এই পরিবর্তন কতটা হবে, তা নির্ভর করবে জ্বালানির দাম, গণপরিবহনের নির্ভরযোগ্যতা, পার্কিং খরচ এবং মানুষের ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর।
সরকার ও এনটিএ অবশ্য বলছে, গণপরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনার খরচ দ্রুত বাড়ছে এবং বর্তমান ভাড়া দিয়ে সেই ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এনটিএর হিসাবে, ভাড়া থেকে পাওয়া অর্থ মোট পরিচালন ব্যয়ের মাত্র প্রায় ৩৮ শতাংশ পূরণ করে। বাকি বড় অংশ আসে রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে। ২০২৬ সালে পাবলিক সার্ভিস অবলিগেশন (পিএসও) পরিবহন খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ৯৪০ মিলিয়ন ইউরো, যা ২০২২ সালের ৫২৫.৫ মিলিয়ন ইউরোর তুলনায় অনেক বেশি। একই সময়ে যাত্রীসংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত গণপরিবহনে যাত্রীর সংখ্যা ৩৬৩.৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫.৮ শতাংশ বেশি এবং ২০১৯ সালের মহামারিপূর্ব ২৯৪.৬ মিলিয়নের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।
সরকারের এই যুক্তির বিপরীতে যাত্রীদের প্রধান প্রশ্ন, বাড়তি ভাড়ার বিনিময়ে সেবা কতটা উন্নত হবে? সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বাস দেরিতে আসা, নির্ধারিত সময়ে সার্ভিস না পাওয়া এবং কিছু রুটে সীমিত সেবার অভিযোগ উঠে এসেছে। দ্য জারনাল ডট আইইর প্রতিবেদনে কয়েকজন যাত্রী সেবার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। ফলে মানুষের কাছে ভাড়া বৃদ্ধি শুধু ১৫ শতাংশ বেশি টাকা দেওয়ার বিষয় নয়; একই সঙ্গে তারা আশা করছেন, বাড়তি অর্থের বিনিময়ে বাস-ট্রেন আরও সময়নিষ্ঠ, নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য হবে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিহেল মার্টিন ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে বলেছেন, সরকার অনির্দিষ্টকাল গণপরিবহনের সব ব্যয় বহন করতে পারে না এবং একটি টেকসই অর্থায়ন কাঠামো প্রয়োজন। অন্যদিকে কমিউটার গ্রুপ, বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার দাবি এসেছে। দেশটির জনপ্রিয় সব গণমাধ্যম আরটিই, আইরিশ টাইমস, আইরিশ এক্সামিনার এবং দ্য জারনাল ডট আইইর প্রতিবেদনে এসব প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ২০২৭ সালের পর থেকে গণপরিবহনের ভাড়া প্রতিবছর পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনটিএ। অর্থাৎ আগামী জানুয়ারির এই বৃদ্ধি হয়তো শেষ নয়; ভবিষ্যতে আবারও ভাড়া পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। ফলে পরিবারের বাজেট পরিকল্পনার ক্ষেত্রে পরিবহন খরচকে এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থায়ী ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
আয়ারল্যান্ডে গণপরিবহন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি বাসের টিকিটের দাম ৩০ সেন্ট বাড়া কাগজে ছোট সংখ্যা মনে হতে পারে, কিন্তু প্রতিদিনের কর্মস্থল, স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও পারিবারিক যাতায়াতের সঙ্গে সেটি যুক্ত হলে বছরের শেষে অঙ্কটি আর ছোট থাকে না। বিশেষ করে যাদের আয় সীমিত এবং গাড়ির বিকল্প নেই, তাদের জন্য এই বাড়তি ব্যয় জীবনযাত্রার অন্য কোনো প্রয়োজনীয় খাত থেকে কেটে নিতে হতে পারে। সরকারের সামনে তাই শুধু গণপরিবহন ব্যবস্থার আর্থিক টেকসইতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন নয়, একই সঙ্গে এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জও রয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষ বাড়তি ভাড়া দিয়েও নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত সেবা পান এবং গণপরিবহন তাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে টিকে থাকে।





