বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এখন শিক্ষক-অভিভাবকরাও

ছবি: রয়টার্স
জনবলসংকট ও জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। ফ্রান্সের অবরুদ্ধ উচ্চবিদ্যালয়গুলোর সামনে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে। একই দিনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা রাস্তায় নেমেছেন। কয়েক দফা বিক্ষোভের মধ্যে মঙ্গলবারই ছিল সবচেয়ে বড় কর্মসূচি।
মার্সেই, নঁত ও লিয়ঁতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিকালে রাজধানী প্যারিসে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে।
তরুণ বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ধোঁয়া ছড়ানো ফ্লেয়ার ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। সেগুলোতে লেখা ছিল, ‘আমাদের পাঠ্য বইয়ের নিচে জমে আছে ক্ষোভ’ এবং ‘রাজনীতিকেরা কোথায়? আমরা যে আছি, তারা কি সেটাও জানেন?’
মঙ্গলবারের বিক্ষোভের আগে টানা দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলেছে। প্যারিসের সুবিধাবঞ্চিত উপশহরগুলো থেকে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সরকার দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে। তাদের ভাষ্য, আন্দোলনটি এখন নগর সহিংসতায় রূপ নিয়েছে।
সোমবার উত্তর ফ্রান্সে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের সময় এক কিশোরের হাত উড়ে যায়। পা দ্য কালাইয়ের প্রিফেক্ট ফ্রাঁসোয়া-জাভিয়ের লশ ঘটনার সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে চাননি। তিনি বলেন, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ছিলেন।
আঞ্চলিক সংবাদপত্র লা ভোয়া দ্যু নোর জানিয়েছে, পুলিশের ছত্রভঙ্গ করার জন্য ব্যবহৃত একটি গ্রেনেড তুলে নেওয়ার পর সেটি বিস্ফোরিত হলে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরের এক হাত ও নিচের বাহুর একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন জানিয়েছে, ১ হাজার ৮০০টি হাই স্কুল অবরুদ্ধ করা হয়েছে অথবা সেদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো সংখ্যা জানায়নি।
স্ট্রাসবুর্গের হুগো ভেটজেল নামের এক উচ্চ বিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট বললেন, ‘যখন জবাব হয় সহিংসতা, তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্র আর কাজ করছে না।’ বর্তমানে ফ্রান্সের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘অভিজাত শ্রেণি আর আমাদের মধ্যে এতটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলো নিয়ে কাজ করতে তার মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলে দ্রুত বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ, সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ স্কুল সময়সূচি পর্যালোচনা এবং মধ্যাহ্নভোজের বিরতি আরও দীর্ঘ করার বিষয়টি বিবেচনা করা।
লেকর্নু বলেন, পুরনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়েও সরকার কাজ করবে। অক্টোবরের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দিতে তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬ হাজার ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক। বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৪৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে কী ধরনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
লেকর্নুর কার্যালয় জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত ৭১৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও ২১৫ জন কিশোর আহত হয়েছেন।






