হরমুজ থেকে ব্রিটিশ ইহুদি প্রসঙ্গ: জাতিসংঘে উদ্বেগের তালিকা ব্রিটেনের
- জাতিসংঘের ফাঁকে বৈঠক, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া থেকে বন্দি ব্রিটিশ দম্পতির মুক্তি, তেহরানের সামনে একগুচ্ছ কঠোর বার্তা লন্ডনের

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আলো ঝলমলে কূটনৈতিক মঞ্চ। বাইরে পতাকার সারি, ভেতরে যুদ্ধ থামানোর আলোচনা। সেই আবহেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সামনে বসে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়ে দিলেন, কূটনীতির দরজা খোলা থাকতে পারে, কিন্তু ব্রিটিশ মাটিতে ভয় দেখানো বা হুমকির কোনও জায়গা নেই।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিবিসি ও আইটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আরাঘচির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠক করেন মিলিব্যান্ড। সেখানে তিনি বলেন, ব্রিটেন “ভয় দেখানো, হুমকি বা ব্রিটিশ ভূখণ্ডে শত্রুতামূলক তৎপরতা সহ্য করবে না”। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হামলার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈঠক-পরবর্তী বিবরণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়েও কথা হয়। মিলিব্যান্ড আরাঘচিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত না করে “উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনীতির পথ বেছে নিতে” বলেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ওপর জোর দেন। লন্ডনের বক্তব্য, সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন বিশ্ব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
বিবিসি জানিয়েছে, মার্চে লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিনে ইহুদি সম্প্রদায়ের চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের পর সম্ভাব্য ইরানি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা তদন্ত করেছিলেন। প্রথমে তারা কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছালেও পরে গোপন গোয়েন্দা তথ্য ইরান বা তার প্রক্সি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার দিকে ইঙ্গিত করেছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জুলাইয়ে ব্রিটেনের একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র সাইবার হামলার কারণে বন্ধ হয়েছিল; টেলিগ্রাফের দাবি ছিল, ইরানি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা ওই হামলা চালিয়েছিল। তেহরান এসব অভিযোগ নিয়ে এই বৈঠকের পর তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি।
আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে পূর্ব সাসেক্সের ব্রিটিশ দম্পতি ক্রেগ ও লিন্ডসে ফোরম্যানের আটক থাকার বিষয়টিও তোলেন মিলিব্যান্ড। মোটরসাইকেলে ইরান ভ্রমণের সময় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁরা আটক হন এবং বর্তমানে তেহরানের এভিন কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে মিলিব্যান্ড বলেছেন, তাঁদের কল্যাণ ব্রিটিশ সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দুই মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে ব্রিটিশ অভিযোগগুলোর সরাসরি জবাব আরাঘচির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সামনে আসেনি। ফলে নিউইয়র্কের সেই বৈঠক কূটনীতির দরজা খোলা রাখলেও, লন্ডন ও তেহরানের সম্পর্কে জমে থাকা অবিশ্বাস যে এখনও গভীর, সেটিই আরও স্পষ্ট হলো।



