বাবার স্মৃতিতে ব্রিটেনের ’সামাজিক পরিচর্যা’ ব্যবস্থা বদলানোর অঙ্গীকার বার্নহ্যামের
- ‘ভাঙা পরিচর্যা ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসেবাকেও ভেঙে দেবে’, সতর্ক করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

মা-বাবার সাথে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
বাবার অসুস্থতার সময় খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তাদের। অল্প মজুরিতে অন্যের মা-বাবার পাশে দাঁড়ানো মানুষগুলোকে। দক্ষতা ছিল, ছিল হাস্যরস ও মানবিকতা। অথচ রাষ্ট্রের চোখে যেন তারা অদৃশ্য। সেই ব্যক্তিগত স্মৃতিই এবার ব্রিটেনের 'সোশ্যাল কেয়ার' বা সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা আমূল বদলে দেওয়ার অঙ্গীকারে পরিণত করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পাতায় দেওয়া এক পোস্টে বার্নহ্যাম বলেছেন, তার বাবা রয় যখন পরিচর্যার প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন, তখন পরিচর্যাকর্মীদের দক্ষতা তিনি সরাসরি দেখেছেন। তার ভাষায়, তারা “দারিদ্র্যের পর্যায়ের মজুরিতে” অন্য মানুষের মা-বাবার যত্ন নিচ্ছিলেন। তবু কাজটি করছিলেন দক্ষতা, হাস্যরস ও মানবিকতার সঙ্গে।
পরিচর্যাকর্মীদের উদ্দেশে বার্নহ্যাম লিখেছেন, “আপনারা আমার চোখে অদৃশ্য নন। আমি আপনাদের দেখি। আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।” দীর্ঘদিন তাঁদের পেশাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে না পারায় নিজের রাজনৈতিক পেশার পক্ষ থেকে দুঃখও প্রকাশ করেন তিনি।
সমস্যাটি শুধু পরিচর্যাকর্মীদের নয় বলেও সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, দুর্বল সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থার চাপ সরাসরি গিয়ে পড়ছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার ওপর। পরিচর্যার অভাবে হাজার হাজার বয়স্ক মানুষ হাসপাতাল ছাড়তে পারছেন না। জরুরি স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদেরও ব্যর্থ পরিচর্যা ব্যবস্থার কারণে ৯৯৯ নম্বরে আসা বহু কল সামলাতে হচ্ছে।
বার্নহ্যামের সতর্কতা, এভাবে চলতে থাকলে “ভাঙা সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবাকেও ভেঙে দেবে।” তিনি লিখেছেন, “আমি তা হতে দেব না।”
এই সংকট মোকাবিলায় ‘জাতীয় পরিচর্যা সেবা’ গড়তে চান বার্নহ্যাম। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উচ্চমানের এই সেবা শুরু হবে মানুষের নিজের ঘর থেকে। সবাই এতে অবদান রাখবেন এবং সবাই এর আওতায় থাকবেন। পরবর্তী পার্লামেন্টে ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য থাকলেও এর প্রস্তুতির কাজ এখনই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির দলীয় সম্মেলনে একই পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন বার্নহ্যাম। তখন তিনি বলেছিলেন, নতুন ব্যবস্থা মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্রে রাখবে এবং ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত পরিচর্যার জন্য সরাসরি অর্থ দিতে হবে না। পরিকল্পনাটি ঋণ নিয়ে অর্থায়ন করা হবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বাবা রয়কে স্মরণ করেই নিজের অঙ্গীকার শেষ করেছেন বার্নহ্যাম। বলেছেন, দায়িত্বে থাকতে যতটা সম্ভব পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবেন। আর সেই কাজ করবেন বাবার স্মৃতির প্রতি এবং তাঁর যত্ন নেওয়া মানুষগুলোর প্রতি সম্মান জানিয়ে।
একজন বাবার অসুস্থতার শয্যা থেকে দেখা দৃশ্য তাই এখন ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় নীতির বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। কে বৃদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নের উত্তর শুধু পরিবার দেবে, নাকি রাষ্ট্রও নিজের অংশটুকু বহন করবে? বার্নহ্যাম বলেছেন, এবার সেই উত্তর বদলানোর সময় এসেছে।



