উত্তরাধিকার করে ৩৯ কোটি পাউন্ড ঘাটতি, নজরে ব্রিটেনের ধনীরা
- গত এক বছরে সম্ভাব্য ঘাটতি বেড়েছে ১৪ শতাংশ
- গয়না, দামি ঘড়ি, চিত্রকর্ম কিংবা বাড়ির প্রকৃত মূল্য ঘোষণায় গরমিল হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ

মৃত্যুর সঙ্গে জীবনের হিসাব শেষ হতে পারে, সম্পদের হিসাব নয়। বাড়ি, ব্যাংকের টাকা, গয়না কিংবা দেওয়ালে ঝোলানো দামি ছবিও মৃত্যুর পরে হয়ে উঠতে পারে কর তদন্তের বিষয়। ব্রিটেনে ধনী ব্যক্তিদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে গত এক বছরে সর্বোচ্চ ৩৯ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড কর কম জমা পড়ে থাকতে পারে, এমন সন্দেহের কথা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে দেশটির রাজস্ব কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এওএলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ আইন প্রতিষ্ঠান টিডব্লিউএম সলিসিটরসের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত এক বছরে ধনী ব্যক্তিদের উত্তরাধিকার করে সম্ভাব্য ঘাটতির সর্বোচ্চ অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড। আগের বছর এই অঙ্ক ছিল ৩৪ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড। অর্থাৎ এক বছরে সন্দেহভাজন ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩৯ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড এখনও নিশ্চিতভাবে বকেয়া কর নয়; তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের হিসাবে এটিই সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ঘাটতি।
ব্রিটেনে কারও মৃত্যুর পরে রেখে যাওয়া বাড়ি, অর্থ ও অন্যান্য সম্পদের মোট মূল্যকে ‘এস্টেট’ হিসেবে হিসাব করা হয়। সাধারণভাবে ৩ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ডের করমুক্ত সীমার উপরের অংশে উত্তরাধিকার করের হার ৪০ শতাংশ। সন্তান বা নাতি-নাতনিকে নিজের বাড়ি দিয়ে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে করমুক্ত সীমা আরও বাড়তে পারে।
রাজস্ব কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞায়, আগের তিন বছরের কোনও এক বছরে অন্তত ২ লাখ পাউন্ড আয় অথবা ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি সম্পদ থাকা ব্যক্তির হিসাব বিশেষ নজরে আসতে পারে। তদন্তকারীরা দেখতে পারেন, প্রোবেট বা মৃত্যুর পর সম্পত্তির আইনি নথিতে দামি গয়না, ঘড়ি বা চিত্রকর্ম বাদ পড়েছে কি না; আবার বাড়ি কিংবা শিল্পকর্মের মূল্য প্রকৃত দামের চেয়ে কম দেখানো হয়েছে কি না।
টিডব্লিউএম সলিসিটরসের অংশীদার ডানকান মিচেল-ইনেসের মতে, সব কম পরিশোধই ইচ্ছাকৃত নয়। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরাধিকার করের নিয়ম জটিল; পেশাদার সহায়তা ছাড়া হিসাব করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে।” এমন ঘাটতি ধরা পড়লে সুদের পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী আর্থিক জরিমানাও হতে পারে।
এদিকে উত্তরাধিকার কর থেকে সরকারের আয়ও বাড়ছে। সরকারি হিসাবে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত এ খাতে আদায় হয়েছে ৩২০ কোটি পাউন্ড, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ কোটি বেশি। জুনে মাসিক উত্তরাধিকার কর আদায় সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
আরও বড় পরিবর্তন আসছে ২০২৭ সালের এপ্রিলে। তখন অধিকাংশ অব্যবহৃত পেনশন তহবিলও মৃত্যুর পর সম্পত্তির হিসাবে যুক্ত হবে। ফলে ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবার উত্তরাধিকার করের আওতায় আসতে পারে, আর সেই সঙ্গে বাড়তে পারে হিসাবের উপর রাজস্ব দফতরের নজরও।



